মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

মক্কা জোটের বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তায় আঞ্চলিক উদ্যোগের ওপর জোর ইরানের

আপডেট:

ইরান সংকট ক্রমে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হুমকি ও হামলা চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুত থাকার খবর। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি, হরমুজ আটকে রাখা এবং হুতি ও সৌদি জোটের পাল্টাপাল্টি হামলা। এসবের মধ্যেই আলোচনার লক্ষ্যে তেহরান সফরে গেছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি দল। মূলত উত্তেজনার কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যেই এ সফর।ট্রাম্প গত রোববার বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে তারা হামলা চালাবেন না। সব মিলিয়ে এটুকু স্পষ্ট যে আলোচনাটি এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইরানের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এর মধ্য দিয়ে আলোচনার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা, তা এখনও অস্পষ্ট।সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই জোটের প্রতিনিধি দলের গতকাল সোমবারই তেহরানে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠকে বসেননি তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেবেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলিও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের মিত্র দেশগুলো।সামাজিক মাধ্যম এক্সে ক্রিমলি লিখেছেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি এই সফর তুলে ধরছে।তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান তেহরানের বৈঠকে অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক না হলেও ইরান কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি।তেহরানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট বিষয়টি হলো মার্কিন পক্ষ আলোচনা নিয়ে আন্তরিক নয়। গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে, তারা আলোচনার সঙ্গে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলে।’ বাঘায়ি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও কূটনীতির দরজা বন্ধ করিনি। নিজেদের জনগণ ও বিশ্বকে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কূটনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আন্তরিক ও অবিচল।মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় আঞ্চলিক উদ্যোগের ওপর জোর ইরানের মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রশংসা করেছে ইরান। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, কিংবা অন্তত এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করছে, এটি আমরা ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করি।তিনি বলেন, ‘এই বৈঠক নিজস্ব সক্ষমতা ও উদ্যোগের ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। কয়েক দশক ধরে আমরা এই নীতির ওপর জোর দিয়ে আসছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি, অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সেখানকার দেশগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের ওপর নির্ভর করতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত