বুধবার, মে ২৭, ২০২৬

ইউক্রেন সংকট, হরমুজ প্রণালী ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট কঠিন চ্যালেঞ্জে ইতালি

আপডেট:

​আনসকালের কন্ঠ ডেস্ক :বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মেলাতে গিয়ে এক কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ইতালি সরকার। প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেনকে অবিরত সহায়তা এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট—এই তিন ফ্রন্টে ভারসাম্য বজায় রাখতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
​সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইতালির বর্তমান অবস্থানকে নিচে কয়েকটি প্রধান ভাগে তুলে ধরা হলো:১. ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও ন্যাটোর প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক
​সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন করে হাইপারসনিক মিসাইল হামলার পর কিয়েভের প্রতি নিজের এবং ইতালির দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তবে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে রোম। ন্যাটোর (NATO) পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে প্রতিটি দেশের জিডিপির ০.২৫% সামরিক সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবে বাধা প্রদানকারী ৫টি দেশের তালিকায় ইতালির নাম আসায় কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
​২. হরমুজ প্রণালী ও ইতালির ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি
​মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকার সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে জর্জিয়া মেলোনি বর্তমানে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ (Wait and Watch) নীতি অনুসরণ করছেন। ইতালি সরকার জানিয়েছে যে, তাদের পূর্ববর্তী নৌ-অভিজ্ঞতা (যেমন: রেড সি-তে পরিচালিত মিশন Aspides) কাজে লাগিয়ে তারা হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে অবদান রাখতে প্রস্তুত। তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আগে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত জুড়ে দিয়েছে রোম। শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়।
​৩.সামনে ধেয়ে আসছে জি-৭ (G7) সম্মেলন, যা মেলোনি সরকারের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা। এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন-বিরোধী অবস্থান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পুনরায় এই জোটে ফেরানোর প্রস্তাব নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ইতালি এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে বিশ্বনেতাদের নজর থাকবে রোমের দিকে।
​৪.
​আন্তর্জাতিক এই জটিলতার মাঝেই অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টেও বড় ধাক্কা খাচ্ছে ইতালি। আগামী ৬ জুন দেশটিতে জ্বালানি তেলের শুল্ক ছাড়ের (Accise) মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। অন্যদিকে এই শুল্ক সুবিধা চালু রাখাও সরকারের বাজেটের ওপর বিশাল বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
​সারসংক্ষেপ: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ন্যাটোর চাপ ও ইউক্রেন সংকট সামলানো, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ-মিশনে অংশ নেওয়ার ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং দেশের ভেতর সাধারণ মানুষের জ্বালানি তেলের ভর্তুকি ধরে রাখা—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার এখন এক সুক্ষ্ম ও জটিল ভারসাম্য রক্ষার নীতি পার করছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত