রোম, ইতালি — মিলানসহ বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সহিংসতা, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে ইতালি সরকার একটি নতুন নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। আজ আয়োজিত মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক শেষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্ডিও এই নতুন আইনের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন।
বিক্ষোভে সহিংস অংশগ্রহণের অপরাধ: কোনো মিছিল বা জনসভায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের দলবদ্ধ হয়ে পাথর, লাঠি বা আতশবাজি ছুড়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মুখ ঢেকে অপরাধ করলে বা কাউকে আহত করলে এই শাস্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দল গঠনে কঠোর সাজা: যারা কম্পিউটার, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে সহিংস বিক্ষোভের জন্য দল সংগঠিত বা উৎসাহিত করবে, তাদের জন্য ৪ থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ নীতি: সরকার “যে ভাঙবে তাকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে” নীতি কার্যকর করছে। কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে অপরাধীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অপরাধী অপ্রাপ্তবয়স্ক (নাবালক) হলে সেই ক্ষতিপূরণ তার বাবা-মাকে বহন করতে হবে।
আগে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের অপরাধের ভয়াবহতা বোঝার ক্ষমতা ছিল কি না, তা রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হতো। নতুন অধ্যাদেশে ধরে নেওয়া হবে যে তাদের অপরাধ বোঝার মানসিক সক্ষমতা রয়েছে (অন্যথা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত)।এতদিন কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ‘প্রতিরোধমূলক আটক’ (Preventive Detention) আইনটি এখন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি জানান, জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার আশঙ্কায় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এই প্রতিরোধমূলক আটকাদেশ প্রয়োগ করা যাবে। সামরিক বাহিনীর বিচারিক পুলিশি ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সমন্বয় করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জোর দিয়ে বলেন, “সপ্তাহান্তে মিলান ও অন্যান্য শহরে যে সহিংসতার ছবি আমরা দেখেছি, তা কোনোভাবেই লঘু করে দেখার সুযোগ নেই। জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই আমরা অবিলম্বে এই পদক্ষেপ কার্যকর করছি।
সুত্র ফটো : আনসা (ইতালি)

