বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

ইতালির সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায় প্রবাসীদের জন্য ফিরছে ‘বিশেষ সুরক্ষা’

আপডেট:

রোম ইতালি :ইতালিতে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন প্রবাসীদের জন্য এক বিশাল আইনি বিজয় অর্জিত হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত (Corte di Cassazione) এক পাকিস্তানি নাগরিকের আপিল মঞ্জুর করে ‘স্পেশাল প্রটেকশন’ বা বিশেষ সুরক্ষার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। আদালতের এই রায় ইতালিতে বসবাসরত হাজার হাজার অনিয়মিত শ্রমিকের জন্য বৈধ হওয়ার নতুন পথ খুলে দিতে পারে।আদালতের রায়ের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলোআদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো প্রবাসী যদি নিজ দেশে চরম অভাব বা ঋণের দায়ে জর্জরিত থাকেন এবং সেখানে ফিরলে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তবে তাকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো যাবে না। এ ধরনের নির্বাসন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।এখন থেকে কেবল কাজ থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং ইতালীয় ভাষা শেখা এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়াকে সার্থক সামাজিক একীভূতকরণের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, একজন প্রবাসী যখন স্থানীয় ভাষা ও আইন জানেন, তখন তিনি সমাজের মূলধারার অংশ হয়ে ওঠেন।সাধারণত মালিকের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশি অভিযোগ বা Denuncia না থাকলে সুরক্ষা পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু আদালত বলেছে ​নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা এই ‘আতিপিচ’ (Atipica) সুরক্ষা পেতে পারেন।আদালত স্বীকার করেছে যে, বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা স্তেজ্জর্নো না থাকাই প্রবাসীদের ‘ব্ল্যাক ওয়ার্ক’ বা অবৈধ শ্রমের অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের দিকে ঠেলে দেয়।ইতালীয় সংবিধানের ২ এবং ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজ দেশে এমন অবস্থায় ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ যেখানে তার জীবন অমর্যাদাকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ইতিপূর্বে ফ্লোরেন্সের একটি আদালত ‘পারিবারিক বন্ধন নেই’ এই অজুহাতে উক্ত পাকিস্তানি নাগরিকের আবেদনটি বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে স্পষ্ট জানিয়ে দিল—পারিবারিক বন্ধন বড় কথা নয়, ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদাই সর্বোচ্চ।এই রায়ের ফলে যারা কর্মক্ষেত্রে শোষণের শিকার হচ্ছেন বা বৈধতার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাদের জন্য আইনি লড়াইয়ের এক নতুন হাতিয়ার তৈরি হলো। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই মানবিক অবস্থান প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত