বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ক্ষমা করে না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যদি ভুল করি আমাদেরকেও ক্ষমা করবে না। সেই কারণে সবাইকে অনুরোধ করব যে, এই সরকারের ওপর সমগ্র দেশের একটা প্রত্যাশা আছে, ভরসা আছে এবং আস্থা আছে- সেটাকে পালন করতে হবে।গতকাল শনিবার আইইবি মিলনায়তনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রকৌশলীবৃন্দ ও স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত প্রকৌশলীকে সংবর্ধনা এবং আইইবি’র ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের প্রতি জনগণের আগ্রহ অনেক, আকাঙ্খা অনেক এবং তারা আশাও করে অনেক, প্রত্যাশা অনেক। আপনারা যে কাজগুলো করবেন- সে কাজগুলো যেন জনগণের সত্যিকার অর্থেই কাজে লাগে। আমার খুব দুঃখ হয় যখন পত্রিকায় দেখি যে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একটি জেলায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে, কোন কাজ হয়নি। এই বিষয়গুলোকে দয়া করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দৃষ্টি দেবেন।এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই দেশের মানুষ এখন আগের মত সরল নেই- তারা কিন্তু সবকিছু বোঝেন, সবকিছু জানেন এবং বুঝতে পারেন। আর দেশের মানুষ কিন্তু কাউকে ক্ষমাও করে না। আজকে আমরা যদি ভুল করি আমাদেরকেও ক্ষমা করবে না।মন্ত্রী বলেন, আইইবি বাংলাদেশে একটা অত্যন্ত প্রেস্টিজিয়াস অর্গানাইজেশন। আইইবি একটা প্রতিষ্ঠান, যারা শুধু ইঞ্জিনিয়ারদের অ্যাসোসিয়েশন নয়- এটা বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক অবদান রেখেছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, বারবার আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। আমাদের সমস্ত অধিকারগুলো আদায় করবার জন্য লড়াই করেছি, অনেক প্রাণ গেছে, অনেক রক্ত গেছে- রাজপথ রক্তে রাঙা হয়ে গেছে। আমরা ২৪-এর জুলাই, যেটাকে আমি ২৪ জুলাই বলছি। এই গণভ্যুত্থানের পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিন্তু একটা বোধ সৃষ্টি হয়েছে, সে বোধটি হচ্ছে যে- আমরা একটা নতুন মুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা সে পুরনো ঘুনে ধরা বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, প্রকৌশলীদের ভূমিকা সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ও প্রয়োজনীয়।প্রকৌশলী কে. এম. আসাদু্জ্জামাননের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইইবি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান, প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল), এমপি, প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান, এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম (তুলি), প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম ক্যামেলিয়া, এমপি, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, এমপি এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রাপ্ত ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল বাকী।

