বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬

জাল ভিসায় ইতালিতে পাঠানোর জড়িত বিমান বাংলাদেশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার

আপডেট:

জাল ভিসায় তিনজনকে ইতালিতে পাঠানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশএয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে জামালপুর থেকে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) বদরুল আলম মোল্লা।বিমানের গ্রাউন্ড অফিসার আকলাসুর রহমানের সহযোগিতায় ওই তিন ব্যক্তি জাল ভিসায় কীভাবে ইতালি গিয়ে ধরা পড়ে এবং পরে তাদের মধ্যে দুজন ফেরত আসেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।এসএসপি বদরুল আলম মোল্লা বলেন, বিমান কর্মকর্তাআকলাসুরের‘যোগসাজশে’ গত ২৬ মে তিনজন ইতালিগামী বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছিলেন। রোম বিমানবন্দরে গিয়ে জাল শেনজেন ভিসাসহ ধরা পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস। পরে তাদের দুই দিন হেফাজতে রেখে ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে আরেকজন কৌশলে ইমিগ্রেশন শেষ করে ইতালিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হওয়ায় তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি সিআইডি।দেশে ফেরত আসার পর বিভিন্ন সংস্থা ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গোটা চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে অনিক ও অক্ষয় স্বীকার করেন, জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে একটি চক্রের সহায়তায় তারা দেশ ছেড়েছিলেন। ইতালি পৌঁছাতে অগ্রিম জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।এ ঘটনায় ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সিআইডি মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ না করলেও তাদের মধ্যে বিমানের আরও একজন কর্মকর্তা থাকার তথ্য মিলেছে। সিআইডির তদন্তে তার জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সিআইডি কর্মকর্তা বদরুল আলম মোল্লা বলেন, “দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের ইমিগ্রেশন এবং বোর্ডিং পাস যাচাইয়ের কোথাও এই যাত্রীদের ধরা যায়নি। প্রথমে তারা নেপালগামী বিমানের ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। সেই বোর্ডিং পাসটি আসল হলেও ওই ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় তাদের নাম ছিল না।”ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বোর্ডিং পাস হাতে পাওয়ার পরই তারা ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেননি। তারা পাঁচ নম্বর স্টাফ গেট দিয়ে বের হয়ে যান। সেখানে যে কার পার্কিং রয়েছে, সেখানে একটি গাড়িতে বসে একজনের কাছ থেকে ইতালিগামী বিমানের বোর্ডিং পাস, টিকিট এবং ভুয়া ভিসা সংগ্রহ করেন। পরে ফিরে এসে তারা নেপালের বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন।তিনি বলেন, “ভিডিওতে আমরা দেখতে পাই, বিমানের একজন কর্মকর্তা এই তিন যাত্রীকে সহায়তা করছেন। একপর্যায়ে তারা ওয়াশরুমে যান, যা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত নয়। সেখানে গিয়ে তারা জাল শেনজেন ভিসাটি পাসপোর্টে সংযুক্ত করেন। জাল ভিসা নিয়ে বিমানে ওঠার আগে আইএনএস গেটে গেলে সেখানে দায়িত্বরত গ্রাউন্ড অফিসার আকলাসুর তাদের পার করে দেন।”বদরুল আলম মোল্লা বলেন, যেহেতু ইমিগ্রেশন করা হয়েছিল নেপালগামী বোর্ডিং পাসে, তাই তাদের ইতালিগামী প্লেনে ওঠানোর জন্য শুধু আইএনএস গেটই ব্যবহার করতে হয়েছিল। সেখানে আকলাসুর দায়িত্বে ছিলেন। তার সহায়তায় ওই তিনজন গেটটি পার হয়ে যান এবং ইতালিতে পৌঁছান। কিন্তু ইতালির ইমিগ্রেশন পুলিশ দুজনের জাল ভিসা শনাক্ত করে তাদের দেশে ফেরত পাঠায়।বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের হোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।তিনি বলেন, “শুধু দালাল চক্র, এয়ারলাইন্স, টিকিটিং এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে আমরা তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। সরকারি কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কিংবা সিভিল এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট যে-ই মানবপাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব।”এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন আকলাসুর। যেহেতু তাকে জামালপুর থেকে আনা হয়েছে, তাই পরবর্তী সময়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তবে অন্য কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি।এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং পাস তালিকার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় থাকা উচিত বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত