বিশেষ প্রতিবেদন :”টুকু আসে টুকু যায়,মাননীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এই উক্তিটি প্রসঙ্গিক ফেনী পৌরসভায় প্রশাসক আসে আর যায়”—বর্তমানে ফেনী পৌরসভার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন এই আক্ষেপ। গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ফেনী পৌরসভায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর থেকে চরম আর্থিক ও কাঠামোগত সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে এই নাগরিক প্রতিষ্ঠানটি। ভবন ও নথিপত্র আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার পর এবং তথাকথিত ‘ছাত্র সমন্বয়ক’ পরিচয়ে একদল দুষ্কৃতকারীর চাপে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন।সংকটময় সেই মুহূর্তে স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিডিএলজি (উপ-সচিব) গোলাম মো. বাতেন ফেনী পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভস্মীভূত পৌরসভাকে পুনরায় সচল করতে নিরলস চেষ্টা চালান এবং নাগরিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে পৌরবাসী নতুন আশা দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে বদলি করা হয়।গোলাম মো. বাতেনের বিদায়ের পর থেকেই তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন পৌর প্রশাসক পরিবর্তন হয়েছেন। কিন্তু কেউই স্থায়ী হয়ে কাজ করার সুযোগ পাননি বা পাননি স্থায়িত্ব। কেউ দুই মাস, কেউবা চার মাস দায়িত্ব পালন করেই বদলি হয়ে যাচ্ছেন। এই ঘনঘন রদবদলের ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম।কোনো ‘অদৃশ্য শক্তি’র কারণে বারবার প্রশাসক পদে এই রদবদল ঘটছে—তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পৌরসভার সাধারণ নাগরিক ও সুশীল সমাজের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন কাউকেই এখানে থিতু হতে দেওয়া হচ্ছে না? এই ঘনঘন পরিবর্তনের পেছনে রহস্য কী?বারবার প্রশাসক পরিবর্তনের ফলে চরম আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ পৌরবাসী। সেবাবঞ্চিত ক্ষুব্ধ নাগরিকরা জানতে চান—এ জনভোগান্তির দায়ভার কে নেবে? স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সদুত্তর দেবে?পৌরসভার উন্নয়ন ও সেবা গতিশীল করতে অবিলম্বে একজন স্থায়ী ও যোগ্য প্রশাসক নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন ফেনীবাসী। একই সাথে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনী জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

