বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬

আইএমএফের শর্ত পুরন করতে পারেনি —বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট:

ঝুঁকিতে নেমে এসেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। আইএমএফের এক প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে দেশের মোট রিজার্ভ এখন ১ হাজার ৮৯৯ কোটি ডলার। ২ দশমিক ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে এ রিজার্ভ দিয়ে। নিট রিজার্ভ ১ হাজার ৪৭৯ কোটি ডলার, যা দিয়ে ১ দশমিক ৮ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। অথচ কোন দেশের রিজার্ভকে নিরাপদ মাত্রায় রাখতে হলে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রাখতে হয়। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেশ কম রয়েছেবাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে সোমবার রাতে প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আইএমএফ মনে করে, রিজার্ভকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। মোট রিজার্ভ তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান করতে হলে বাংলাদেশকে আরো দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর প্রকৃত রিজার্ভ তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান করতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো তিন বছর। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য মানতে নারাজ। তারা বলেছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন নিট ও গ্রস দুই হিসাবেই তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের ওপরে রয়েছে। গ্রস হিসাবে এখন রিজার্ভ ২ হাজার ৫২৩ কোটি ডলার ও নিট হিসাবে ১ হাজার ৯৯১ কোটি ডলার। যা দিয়ে সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত পরিপালন করতে হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্ধারিত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ আইএমএফের দেয়া শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ রিজার্ভ রাখতে পারেনি। আর এ জন্য সংস্থাটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভের নতুন লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। শর্ত অনুসারে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিট রিজার্ভ ১ হাজার ৫৩২ কোটি ডলারে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে নিট রিজার্ভ রয়েছে ১ হাজার ৪৭৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুনে গ্রস রিজার্ভ ও ২০২৭ সালের জুনে নিট রিজার্ভ তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হবে। অথচ আইএমএফ থেকে চলতি জুন পর্যন্ত নিট রিজার্ভ ধারণের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল ১ হাজার ৭৭৮ কোটি ডলার। ওই সময়ে এ লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। রিজার্ভ জুন শেষে ১ হাজার ৬৭৩ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত