বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তারিখ ঃ ০৭.০৭.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

অনিবার্য সত্য ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে!

মস্কোর জয় কিয়েভের পরাজয় নাকি ওয়াশিংটনের পরাজয়! শোচনীয় পরাজয় নিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে! ইউক্রেনের চারের এক অংশ রাশিয়ার দখল করে নিয়েছে।

 

প্রিয় পাঠক, রাজাকে রাজনীতি জানতে হয়! কৌতুক অভিনেতা জেলেনেস্কি রাজনীতি জানতেন না, সিনেমায় ভাড়ামি করে লোক হাসাতে পারতেন! বিশ্বের ভিতর আর একটা বিশ্ব, নাম তার রাশিয়া। সত্তুর ভাগ ইউরোপের ভিতর আর তিরিশ ভাগ এশিয়া মহাদেশে। একদিকে সূর্য উদিত হয় অন্য দিকে গোধূলী সন্ধ্যা নামে। ইউরোপীয় বড় দেশ রাশিয়া, দ্বিতীয় অবস্থান ইউক্রেন। ১৯৯০ সালে মার্কিন গর্বাচভ কে ম্যানেজ করে যে পনের দেশ বের করে “সোভিয়েত রাশা” ভেঙ্গে দুর্বল করতে শুধু রাশিয়া রেখেছিলো ইউক্রেন তাদের একটা। বিশ্বের পচাত্তর ভাগ গম সরবরাহ করতো সোভিয়েত রাশা, ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত করতো পঞ্চাশ ভাগ আর ইউক্রেন পঁচিশ ভাগ।

এ মুহূর্তে ইউক্রেনের অনেক আবাদি জমি নিয়ে গেছে রাশিয়া। বিশ্বের স্হল ভাগের আটের এক অংশ হলো রাশিয়া বাকী অংশ সারা বিশ্ব। পাঁচটা ভারতের সমান রাশিয়া, একুশটা পাকিস্তানের সমান! নারীপুরুষ শিক্ষার হার ৯৯.৯৯%, কি বুঝলেন?

এ মুহূর্তে লুহানস্ক, দোনিয়েৎস্ক, জাপোরিসা,খরসান, ডনবাস চিরতরে রাশিয়ার অংশ হয়ে গেলো। ইতিমধ্যে মহামান্য পুতিন এসব জায়গায় গনভোট দিয়ে রাশিয়ার নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে!

 

কেন এ যুদ্ধ? ঃ

মার্কিন নাগরিক বৃটিশ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক তার আর্টিকেলে সম্পূর্ণ জো বাইডেন স্যার কে দায়ি করেছেন। ইউক্রেন কে তাড়াহুড়ো করে NATO তে যোগ দেয়ার বুদ্ধি এবং সেই অন্ধকার টোপে কৌতুক নেতার পা দেয়া যুদ্ধের কারন! আর একজন হতবুদ্ধি বাইডেন স্যারের জোহুকুম জাঁহাপনা ছিলেন বৃটেনের “জন বরিসন”, তিনি ইউক্রেন সফর করে বলে আসলেন, We are whole war with you till defeated of PUTIN !

সারা বিশ্বে দুর্ভিক্ষ, বাংলাদেশের গ্যাসের মূল্য আজ-ও দুই বার্নার চুলা হাজার আশি টাকা ! বরিসনের বৃটেনে সাতশত পাউন্ডে গ্যস সাতাশ শো পাউন্ড হয়ে গেলো। “বরিসন” গন রোষে পদত্যাগ, ইতালির “দীঘি” গদি হারালো। রাশিয়া সফরের জন্য পাকিস্তানের ইমরানকে সেই আয়ুব ইয়াহিয়া পারভেজ স্টাইলে ক্ষমতা থেকে নামালো মার্কিন “ডোনাল্ড লু” সফরের পরের দিন, শ্রীলঙ্কা লু যাওয়ার পর ই চলমায় সরকার শেষ, নজর দিলো বাংলাদেশের দিকে, ব্যর্থ হলো শেখের বেটির কাছে!

 

কি উদ্দেশ্য ছিলো জো বাইডেন স্যারের যুদ্ধ লাগানোর ঃ

১. প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো অস্ত্র বেচা! রাশিয়ার সাথে পাঁচটা ইউরোপীয় দেশের বর্ডার। যুদ্ধ লাগার পর জো বাইডেন স্যার সফর শুরু করলেন এসব দেশ, জুজুর ভয় দেখালেন, অস্ত্রে সজ্জিত হও, আগ্রাসী রাশিয়া তোমাদের ও ছাড়বে না। এস্তোনিয়া ফিনল্যান্ড লাটভিয়া কালিনিগ্রাদ এমনি রুমানিয়া বুলগেরিয়া যুগোস্লাভ বসনিয়া পোল্যান্ড ভয় দেয়া হলো। কেউ অস্ত্র কিনলো না!! অস্ত্র ব্যবসা হলো না !

২. রাশিয়ার মাজা ভাঙা উদ্দেশ্য ঃ

রাশিয়ার মাজা ভাঙ্গে নাই বরং ১লা জুলাই বিশ্ব ব্যাঙ্ক রাশিয়াকে উন্নত আয়ের দেশ হিসাবে ঘোষণা করেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের কৃষি জমির চারের এক ভাগ দখল পেয়েছে। জার্মান রাশিয়া ৫২ বিলিয়ন ডলার খরচের গ্যাস পাইপ লাইন উড়িয়ে দেয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মানুষ শীতে কেপেছে এবং মার্কিন নিষ্ঠুরতা আচ করেছে।

 

মার্কিন কি লোকসান হলো ঃ

১. বাইডেন স্যারের দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসায় অনিশ্চয়তা।

২. তার পৌষ্যপুত্র ইসরায়েলের নেতানিয়াহু অনিশ্চিত পুনঃ নির্বাচনে!

৩. মিত্র ইউরোপে ভাঙ্গন।

৪. N A T O তে ভাঙ্গন!

৫. এশিয়া সম্পূর্ণ ভাবে হাত ছাড়া।

৬. মুসলিম সাতান্নটা দেশের বিরাগ ভাজন।

৭. মধ্য প্রাচ্যে অস্ত্র বাজার হারানো।

৮. ইরানের জুজু ভয় শেষ করে চীন রাশিয়া ভয় ভেঙে তাকে আরব দেশগুলোর বন্ধু করে দিয়েছে।

৯. রাশিয়ার তেলের নতুন বাজার খুলে গেছে।

১০. ইরান চীন রাশিয়া তুরস্ক বন্ধু হয়েছে।

১১. এশিয়ার উপর পশ্চিমারা কতটা নির্ভরশীল তা আমরা লেখক সংঘ তুলে ধরেছি ফেজবুক টুইটার ব্লগ পত্রিকায় বিশ্বের কাছে যা ইউক্রেন যুদ্ধের আগে মানুষ জানতো না।

১২. দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর আমেরিকা ভিয়েতনাম, কোরিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া সহ প্রায় গোটা দশ যুদ্ধ করেছে এবং সব জায়গায় পরাজিত হয়েছে বরং তার ফ্যাসিষ্ট ও নির্যাতন নিপিড়ন বিশ্ব অবলোকন করেছে। আজ ও ফিলিস্তিনের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি আমেরিকা ঠেকিয়ে রেখেছে যাদের জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যে দেশের ১৪৬ দেশ স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে। তার নিজ দেশ থেকে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে! সারা বিশ্বে হত্যাযজ্ঞ যেখানে লোক ও সম্পদ ক্ষয় হয়েছে সেখানে মার্কিন কালো থাবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধ্বংসের অংশীদার। গনতন্ত্র মানবতা মনুষ্যত্ব আমেরিকার কুম্ভ অশ্রু বহানো একটা ড্রামা যা আজীবন তারা মঞ্চস্থ করে আবার রাজতন্ত্র পাহারা দেয়, গনতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটায়, সামরিক তন্ত্রের আজীবন সমর্থক।

আফ্রিকার কালো মানুষের মার্কিন নিপীড়ন যদি কেউ চোখে দেখতে চান, লেখক আলেক্স হেলির “দি রুটস” সিনেমা দেখবেন, সন্তান দের দেখাবেন।

 

প্রিয় পাঠক, বিশেষজ্ঞ মতামত, ইউক্রেন কে ঘুরে দাড়াতে কম পক্ষে একশো বছর সময় লাগবে সেই আগের জীবনে ফিরে আসতে। ফিলিস্তিনের আজ পর্যন্ত তিরিশ হাজার লোক মৃত্যু বরন করেছে ইসরায়েলের হাতে, পিছনে মদদ দাতা আমেরিকা। যারা আমেরিকা কে “ভগবান” ডাকে বাংলাদেশে আরামে থেকে তাদের থেকে আপনার আমার সাবধান হওয়া উচিত কারন আরো দুইশো বছর বৃটিশের গোলামীর মত মার্কিন গোলামী করতে চাই না এবং মার্কিন থেকে পুনঃ স্বাধীন হতে বৃটিশের মত আরো আমাদের সন্তানেরা দুই বিলিয়ন জীবন না বলি দিতে হোক।

 

নিজ দেশকে ভালোবাসেন, নিজ ধর্ম কে ভালোবাসেন। ধর্ম ব্যবসা বা ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি না! ধর্ম লেবাস না, “মন”। চোখ দেখে না, “দেখে মন” যা আপনার কাপড় ভেদ করে দেখতে পায়, দেখতে পায় সাতসমুদ্র তের নদীর ওপার তাই জার্মান আমেরিকান মেয়ে বাংলাদেশের গ্রামের ছেলের সাথে এসে ঘর বাঁধে। মন ভালো করেন, পবিত্র করেন, কোটি কোটি সো কল্ড “নেকি” নয় সরিষা পরিমান অপরাধ আপনাকে নরকে/দোজখে নেবে।

জন বরিস ইউক্রেনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত