বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি কমে যাওয়া ও ডলার সংকটের কারণে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে দেশের অর্থনীতি। এর মধ্যে যোগ হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে অর্থনৈতিক স্থবিরতা। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই অর্থনীতিকে পুরোদমে সচল এবং অর্থনৈতিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিয়েছে। অর্থ পাচার বন্ধ, বিগত সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, ভঙ্গুর আর্থিক খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ আদায়, ব্যাংকব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি বন্ধ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর নানা তৎপরতা দেখে গেছে নতুন সরকারের গত এক সপ্তাহের কার্যক্রমে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকারকে অর্থনীতিতে স্বাভাবিক গতি ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, ইন্টারনেট বিভ্রাট ও কারফিউয়ের কারণে অর্থনীতির প্রায় সব খাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশের শ্লথ অর্থনীতিকে সচল করার কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন, নানা নির্দেশনা দেন।ছাড়া এ যাবতকালে দেশ থেকে যেসব অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সঠিক তদন্ত করা হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলোর মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। যারা পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরদিন শনিবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতিকে যত দ্রুত সম্ভব গতিশীল করাই অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য। বিভিন্ন কারণেই দেশে অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। আমাদের লক্ষ্য হবে অর্থনীতিকে যত দ্রুত সম্ভব গতিশীল করা। কারণ, অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে গেলে সেটা চালু হওয়া বেশ কঠিন। আমরা অর্থনীতিকে স্তব্ধ হতে দিতে চাই না। অর্থনীতিতে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। ব্যাংকে সমস্যা রয়েছে, মূল্যস্ফীতি সমস্যা রয়েছে। আরও অনেক অনেক ধরনের জটিলতা রয়েছে। সবক্ষেত্রেই কাজ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এই মুহূর্তে প্রথম ও প্রধান কাজ হবে দেশে সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এতে সবার মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। বহুদিন ধরেই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি- এই দুটি ক্ষেত্রে সংকট চলছে; যা এখন আরও তীব্র হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টার জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, সুদের হার ও মুদ্রা বিনিময় হারসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঠিক রাখা এবং একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনাও চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে।
রপ্তানি কমে যাওয়া, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি,ডলারর সংকট দেশে-অর্থ উপদেষ্টার চ্যালেঞ্জ
আপডেট:

