আনোয়ার মোরশেদ মজুমদার (বুলেট)
ফেনী সব সময় আলোচনা কেন্দ্রে থাকে, এখানে রাজনৈতিক মোড়কে অপরাধীরা অপরাধ করে।ফেনীতে ৪ আগষ্টের ছাত্র জনতার উপর গুলি করছে যুদ্ধ অস্ত্র দিয়ে এতে ১০ জন শহীদ হয়। ৫ আগষ্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে সরকার পরিবর্তন হলে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। কিন্ত তাদের কিশোর গ্যাং রয়ে যায়। তারা এখন নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের বড় ভাইদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে যে যার মতো করে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। আচমকা বদলে যাচ্ছে ফেনীর অপরাধ জগৎ। খুনখারাবি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখল, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত সবই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফেনীর অলিগলি থেকে শুরু করে ট্রাংক রোডে, মিজান রোড়, জেল রোড়, কলেজ রোড়, সরকারি অফিস, সর্বত্রই চলছে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। পুরাতন চক্রের পাশাপাশি নতুন নতুন গ্যাং তৈরি হচ্ছে। এলাকায় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব বেড়েছে। ছোটখাটো ঘটনায়ও এখন প্রকাশ্য অস্ত্রের প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি এলাকার সরকারি অফিসে অফিসে গিয়ে টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে সন্ত্রাসীরা। বেপরোয়া হয়েছে চিহ্নিত ও নয়া চাঁদাবাজরা। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ছোট বড় ব্যবসায়ী, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফুটপাথসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেদারছে চাঁদাবাজি হচ্ছে। সমস্যাটা হলো প্রচলিত আইনের মাধ্যমে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারছি না। শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মামলা তদন্ত, পুলিশের জোড়ালো ভূমিকা, অপরাধীদের ক্ষেত্রে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশ ও অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে তাদের যে অঙ্গীকারের মতো জায়গাগুলোতে যথেষ্ট ঘাটতি আছে। এ ধরনের ঘাটতি থাকলে কোনো অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

