বেলাল ভূঁইয়া (ইতালি, রোম থেকে):
বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে ভ্রমণকারীদের মধ্যে খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে আসার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পুনরায় ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইট চালু করার পর যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে, সেইসঙ্গে বাড়ছে লাগেজ মিসিং, কাস্টমস জটিলতা ও নিষিদ্ধ পণ্য বহনের ঘটনা। অনেকেই না জেনে, আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পণ্য নিয়ে আসছেন যা ইউরোপের কাস্টমস আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ।
🔴 কী ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ?
⛔️রান্না করা খাবার
যেকোনো ধরনের হোমমেড খাবার যেমন ভর্তা, বিরিয়ানি, হালুয়া ইত্যাদি পুরোপুরি নিষিদ্ধ।⛔️গোশত, মাছ ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য
কাঁচা, রান্না করা বা প্রক্রিয়াজাত কোনো মাংস, মাছ, মুরগি বা এগুলোর তৈরি খাবার বহন করা নিষিদ্ধ। এতে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।⛔️দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য
দুধ, দই, ঘি, ছানা জাতীয় পণ্যও কড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এগুলো EU-এর ফুড সেফটি রেগুলেশনের আওতায় আসে।⛔️বাড়িতে তৈরি আচার বা মিষ্টি জাতীয় পণ্যআচার, সেমাই, রসগোল্লা, সন্দেশসহ যে কোনো বাড়িতে তৈরি খাবার নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় পড়ে।
⛔️অতিরিক্ত পরিমাণে চাল, ডাল, মসলা, তেল ইত্যাদি
ব্যবহারের চেয়ে বেশি পরিমাণে এসব পণ্য বহন করলে তা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আমদানি হিসেবে ধরা হয়।
✅ এই বিধিনিষেধের কারণ কী?
🇪🇺ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে আসা প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ পণ্যে বিভিন্ন রোগজীবাণুর আশঙ্কা থাকে। এগুলোর মাধ্যমে মাংকিপক্স, বার্ড ফ্লু বা অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এসব পণ্যের প্রবেশে কঠোর কাস্টমস কন্ট্রোল আরোপ করা হয়েছে।
⚠️ কী হতে পারে যদি ধরা পড়েন?
⚠️পণ্য জব্দ করে ফেলে দেওয়া হয়।একাধিকবার ধরা পড়লে মোটা অঙ্কের জরিমানা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য বোঝা গেলে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ফাইলে নেতিবাচক রেকর্ড যুক্ত হয় পণ্য যদি কারও হয়ে আনা হয়?অনেকে “কেউ দিয়েছে সাথে আনতে” বলে পণ্য বহন করেন। কিন্তু ইতালিতে প্রবেশের সময় আপনি যেটা নিয়ে আসছেন, তার দায় আপনার ওপরেই পড়ে। যদি সেই পণ্যে নিষিদ্ধ কিছু পাওয়া যায়, আপনি নিজেই দায়ী হবেন।
👉 করণীয় কী?
• প্রত্যেক যাত্রীকে নিজ দায়িত্বে জানতে হবে কোন পণ্য আনা যাবে আর কোনটি নয়।
• নিজের লাগেজের সবকিছু নিজে প্যাক করুন, অন্যের জিনিস বহন না করুন।
• ফ্লাইটে ওঠার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কাস্টমস ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে তথ্য জেনে নিন।
• “নিজের জন্য” বললেও যদি পরিমাণ বেশি হয়, আইন আপনাকে ছাড় দেবে না।
• সব সময় সতর্ক থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে চললে শুধু নিজের ভ্রমণই নয়, আপনার সম্মান ও ভবিষ্যৎও নিরাপদ থাকবে। নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব।
সুত্র : ফেনী মিডিয়া রোম – ইতালি


