গত ১৭ বছরে কোন প্রতিযোগিতা সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। যা হয়ে সেখানে মাদকের আড্ডা। বন্যা কবলিত এই জননপথে সাঁতার জানা জরুরী। সুইমিংপুলে সাঁতার প্রতিযোগিতা না হয়ে স্কুল সমুহের সাঁতার প্রতিযোগিতা হয় জেলা পরিষদের পুকুরে। জেলা প্রশাসক, শিক্ষা কর্মকত্তা জানেই না ফেনীতে সুইমিংপুল আছে। জেলা পর্যায়ে সাঁতার শেখানো, প্রতিযোগিতার আয়োজন, স্থানীয় ও আশপাশের মানুষের জন্য সাঁতারের ব্যবস্থা করতে ২০০০ সালে ফেনীতে নির্মাণ করা হয় সুইমিংপুল। জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে তিন একর জায়গায় নির্মিত আট লেনের সুইমিংপুলটি ঢাকা-চট্টগ্রামের মাঝামাঝি হওয়ায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণের ২৫ বছর পরও এটি চালু করা যায়নি।স্থানীয়রা বলছেন, একে একে প্রায় সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। চুরি হয়ে গেছে পানি উত্তোলনের মোটরসহ লোহার যাবতীয় সরঞ্জাম। বছরের পর বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি চালুর আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সীমানাপ্রাচীরে ঘেরা সুইমিংপুলটি মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমন উল হক বলেন, ‘২৬ বছরেও সুইমিংপুলটি চালু না হওয়া দুঃখজনক। এটি শুধু শিশু-কিশোরদের জন্য প্রয়োজন তা নয়; এটি চালু হলে আমাদের জেলায় সাঁতারু তৈরি হবে। প্রতিযোগিতার আরো একটি ইভেন্ট যোগ হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেও কোনো ফল পাইনি।সরজমিনে দেখা গেছে, সুইমিংপুল এলাকার চারপাশে সীমানাপ্রাচীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দুই পাশে দুটি লোহার ফটক থাকলেও সেগুলো ভেঙে পুরো এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সুইমিংপুলের মূল ভবনের সামনে বৃহদায়তনের মাঠে ক্রিকেট অনুশীলন করছে কয়েকজন কিশোর। ২ ঘণ্টায়ও দেখা মেলেনি নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির। সুইমিংয়ের লেনে আবর্জনা মিশ্রিত পানিতে খেলাধুলা করছে কয়েকটি শিশু। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পূর্ব ও পশ্চিম পাশ আগাছায় ভরে গেছে। মূল ভবনের ভেতরে সুইমিংয়ের গ্রাউন্ডে টাইলগুলো উঠে যাচ্ছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেখা দিয়েছে ফাটল। যন্ত্রপাতিগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। চুরি হয়ে গেছে পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপিত মোটর ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।স্থানীয়রা জানান, নগরায়ণের কারণে দিন দিন শহরে পুকুরের সংখ্যা কমছে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে এখানে সুইমিংপুলটি নির্মাণের পরও কেন চালু হচ্ছে না তা কেউ জানে না। এটি চালু হলে আমরা সাঁতার শিখতে পারতাম। প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিতে পারতাম।
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই খবরের কাগজে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর খবর আমরা পেয়ে আসছি। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় শুধু সাঁতার না জানার কারণে ফেনীতে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও ক্রীড়া সংস্থার গাফিলতির কারণে স্থাপনাটি চালু করা যায়নি।’
ফেনী ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের দাউদপুর এলাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় সুইমিংপুলটি। ২০১৪ সালে এটির নামকরণ করা হয় মরহুম মাহবুবুল হক পেয়ারা সুইমিংপুল।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্যদের নিয়ে সুইমিংপুলটি পরিদর্শন করেছি। এটি এখন চালু করতে হলে অন্তত ১ কোটি টাকা প্রয়োজন। আমরা এটি চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে এটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।’

