শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

ব্যবসা বানিজ্য স্থবিরতা ও বিনিয়োগ নেই দেশী বিদেশি কর্মস্থান নেই

আপডেট:

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ধস নেমেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিন্ডিকেটের কারণে বাড়ছে চালের দাম। কর্মসংস্থান বাড়েনি। এ অবস্থায় দেশের এই ভঙ্গুর অর্থনীতির গতি ফেরাতে নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি করা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি ব্যাংক ব্যবস্থার উন্নয়নে সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখা।বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬ : নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। গতকাল শনিবার ঢাকার ধানম-িতে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনে করেছে। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম । আগামী সরকারের জন্য সুপারিশ : অর্থনীতির এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু পরমর্শ ও সুপারিশ জানিয়েছে সংস্থাটি। সিপিডি বলছে, রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপ জরুরি। বাস্তব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সম্পত্তি কর হালনাগাদ করে এনবিআরের সম্পদ করের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে অকার্যকর করছাড় ও অব্যাহতিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাতিল করতে হবে এবং খেয়ালখুশি মতো কর সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধে নীতিগত ও বাস্তব প্রয়োগ উভয় পর্যায়ে কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।ব্যাংক ও জ্বালানি খাত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে ব্যাংক খাত সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। ঋণখেলাপি কমাতে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বাস্তবায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে। জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, দেশীয় অনুসন্ধান জোরদার ও এই খাতের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং প্রবাসী আয় ধরে রাখার কৌশল ছাড়া ভবিষ্যৎ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত এই পদক্ষেপগুলো যদি প্রয়োগ করে সঠিক পথে বাংলাদেশ এগুতে পারে তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত