ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্টের ইরান আগ্রাসন কারনে ভুক্তভোগী সারা বিশ্বের মানুষ তার ধকল ইতিমধ্যে পড়েছে।
আধুনিক ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও ভয়াবহ ‘এনার্জি পভার্টি’ বা জ্বালানি দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে ইতালি। দেশটির প্রায় ৯.১ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ২.৪ মিলিয়ন পরিবার বর্তমানে অসহনীয় জ্বালানি সংকটে দিনাতিপাত করছে। ক্রমবর্ধমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল মেটাতে গিয়ে এসব পরিবার মৌলিক চাহিদাগুলোতে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে।
সংকটের মূলে জরাজীর্ণ আবাসন ও উচ্চ ব্যয়
ইতালির আবাসন খাতের ভবনগুলো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম পুরনো। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং দুর্বল ইনসুলেশনের কারণে এসব বাড়িতে জ্বালানি খরচ তুলনামূলক অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক বোঝা ক্রমাগত বাড়ছে। অতিরিক্ত বিলের চাপে অনেক পরিবার খাবার, জরুরি চিকিৎসা কিংবা সন্তানের শিক্ষার খরচ কমিয়ে দিয়ে হাড়কাঁপানো শীত ও আর্দ্রতার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।গবেষণায় একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে—যেসব পরিবারে বিদেশি বা অভিবাসী সদস্য রয়েছে, তারা স্থানীয় ইতালীয় নাগরিকদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে এই সংকটের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া:
সংকটাক্রান্ত পরিবারগুলোর ২৫ শতাংশেরই অন্তত একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে।পর্যাপ্ত উষ্ণতার অভাবে এই শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
ইইউ-এর আইনি পদক্ষেপ ও সরকারি সীমাবদ্ধতা
ভবন সংস্কার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণে ইতালির ধীরগতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইতিমধ্যে দেশটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ (Infringement procedure) শুরু করেছে। যদিও ইইউ-এর ‘গ্রিন হোমস ডিরেক্টিভ’ অনুযায়ী ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক অনীহা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা থমকে আছে।রোমের ‘পোর্তো ফ্লুভিয়ালে’ প্রকল্পের মতো কিছু নগর পুনর্গঠন উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে উদাহরণ তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ দিয়ে পুরো দেশের চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। দেশব্যাপী কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য যে বিশাল কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রয়োজন, বর্তমানে ইতালিতে তার তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিলের চাপে কমছে খাবার ও চিকিৎসার খরচ ইতালি ও অভিবাসীদের
আপডেট:

