ইতালির কৃষি খাতে বিদেশী শ্রমিকদের ওপর চলা অমানবিক শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র আবারও সামনে এসেছে। সম্প্রতি দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক বিশেষ তদন্তে খামারগুলোতে তীব্র শ্রমিক শোষণের ভয়াবহ প্রমাণ মেলে। ‘তেরা দি কনফিনে’ (Terra di confine) সংকেতে পরিচালিত এই অভিযানে উঠে এসেছে কীভাবে আধুনিক যুগেও দাসত্বের মতো পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য করা হতো শ্রমিকদের।
ঘণ্টা মেপে নির্যাতন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা
তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত খামারগুলোতে মূলত নাইজেরিয়া, রোমানিয়া ও আলবেনিয়া থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকরা কাজ করতেন। আঙুর ও ফল চাষে নিয়োজিত এই শ্রমিকদের ন্যূনতম কোনো ছুটি বা সাপ্তাহিক বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হতো না। এমনকি কাজের ফাঁকে শৌচাগার বা বাথরুম ব্যবহারের সময়টুকু হিসাব করে তা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি থেকে কেটে নেওয়া হতো।শ্রমিকরা যাতে বাইরে কারও সাথে যোগাযোগ করতে বা তাদের ওপর চলা নির্যাতনের কথা জানাতে না পারেন, সে জন্য তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।এই মধ্যযুগীয় শোষণের নেপথ্যে থাকা মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন মাতেরা এলাকার ৪৬ বছর বয়সী জিওভান্নি মাজোত্তা। তার প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও নজরদারিতেই শ্রমিকদের ওপর এই চরম নির্যাতন চালানো হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ইতালির সামরিক পুলিশ সংস্থা কারাবিনিয়েরি (Carabinieri)-র ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট এবং লেবার ইন্সপেকশন (শ্রম পরিদর্শন) ইউনিট যৌথভাবে এই দীর্ঘ ও জটিল তদন্তটি পরিচালনা করে।
বর্তমানে এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জোরদার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলি রেমো এপিফানি এবং রাফায়েল কাস্তোর যৌথ সমন্বয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: কারাবিনিয়েরির ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট ও শ্রম পরিদর্শন ইউনিট (ইতালি)।
ইতালিতে কৃষি খামারে ভয়াবহ বিদেশি শ্রমিক শোষণ
আপডেট:

