বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর ১০৪ তম জন্মদিন

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ১৭.০৩.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্ম দিবস!

১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে রাত ৮ ঘটিায় তিনি ভূমিষ্ঠ হন।

তার ডাক নাম রাখা হয় খোকা, মুজিবুর রহমান।

ছেলেবেলায় তিনি ফুটবল খেলতেন, গরীবের উকার করতে গায়ের চাদর হাতের ছাতা গরীব কাউকে দিয়ে আসতেন। শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে গরীবের ভিতর বিতরন করতেন।

 

প্রিয় পাঠক, মুজিব ছিলেন Highly talent warrior of the world. তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় শেরেবাংলা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে পান। তিনি সেই বয়সে কলকাতা যেয়ে নেতাজি “সুভাষ বোসের” সাথে দেখা করেন। নেতাজির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তার পছন্দ ছিলো! তিনি সাহসী ছিলেন এবং ভাসানী সোহরাওয়ার্দী শেরেবাংলা মন্ত্রী সভার মন্ত্রীত্ব পান তার কর্ম দক্ষতায়!

যুক্তফ্রন্ট মাত্র ৫৭ দিন ক্ষমতায় ছিলো, ক্ষমতা কেড়ে নিলে তিনি বুঝে ফেলেন সাত হাজার বছরের প্রথিত শিকড়ের বাঙালি জাতিকে ক্ষমতায় যেতে দেয়া হবে না!

যে বাঙালি কে গ্রীক দার্শনিক গোখলে বলেছিলেন , “বাঙালি আজ যা ভাবে বিশ্ব তা ভাবে এক সপ্তাহ পরে”

সেই বাঙালি কে পশ্চিমা অবহেলা তিনি সহ্য করতে পারেন নাই। ৫২ র ভাষা আন্দোলনের শহীদের রক্তের পিচ্চিল পথে এগুতে চান কিন্তু বাঁধা ছিলেন মাওলানা ভাসানী যিনি বিভিন্ন অজুহাতে শ্লো চলো নীতি নেন এবং আইয়ুব খানের অনুদানে চায়না ভিজিট করেন!

 

ভাসানী ফেরত এলে তিনি সামনে এগুতে যুক্তফ্রন্ট ভেঙে আলাদা ভাবে প্রতি দল কে গিয়ার আপ করতে চান, ভাসানী সন্মতি দিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। সোহরাওয়ার্দী তখন বৈরুত হাসপালে ভর্তি। মুজিব যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ফেজ করেন ৬ দফার আন্দোলন চলা কালে এবং ১৯৭৯ এ গন অভ্যুত্থানে আইয়ুব ক্ষমতা ছেড়ে চলে যান কিন্তু ক্ষমতা দিয়ে যান আর এক সামরিক জান্তা “ইয়াহিয়া” কে।

ইয়াহিয়া ৭০ সালে বিচারপতি সাত্তার কে চীফ নির্বাচন কমিশন করে নির্বাচন দেন। আবির্ভাব ঘটে আর এক বাঙালি মুখোশে মেজর জিয়ার যাকে পাঠানো হয় নির্বাচন মুসলিম লীগ মুখো করার প্রত্যাশায় কিন্তু বাঙালি গনজাগরণের কাছে জিয়ার মিশন ভোতা হয়ে যায়!

জিয়ার বাবা মুনসুর আহমেদ কলকাতা উর্দু পত্রিকার ইন্ক টেকনিশিয়ান ছিলেন। জীবনে তিনি পূর্বপাকিস্তান বাঙালি চেহারা দেখতে আসেন নাই এবং ১৯৪৭ সালে অখন্ড ভারত দু’ভাগ হলে তিনি তার সাথে পরিবার সহ কলকাতা হতে ছেলে জিয়ার হাত ধরে করাচি যেয়ে বসতি স্হাপন করেন। জিয়া ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে

সেনা সেপাইতে চাকুরী নেন। সেনা শর্ট কোর্সে H S C পাশ করে অফিসার পদ পেয়ে যান! তিনি ১৯৭০ এর আগে বাঙালি চেহারা দেখতে পূর্বপাকিস্তান আসেন নাই। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একমাত্র বিশ্বস্ত বাঙালি অফিসার ছিলেন!

 

বাকী ইতিহাস আপনারা জানেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ও মুজিব কে ক্ষমতা দেয়া হয় নাই, তিনি ৭ ই মার্চ

পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ২৫ শে মার্চ

পাকিস্তানের বর্বর হত্যাকাণ্ডে অপারেশন সার্চ লাইটের পর তিনি বন্দুক টা পাকিস্তানিদের কাধে রেখে ফায়ার করেন অর্থাৎ ফাইনাল স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং গ্রেফতার হন। নয় মাস যুদ্ধে ভারত সোভিয়েত রাশার সাহায্যে ৩০ লক্ষ বাঙালির জীবন ও ৪ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে লাল সবুজ পতাকার দেশ বাংলাদেশ আমরা পাই।

 

শুরুতে বলেছিলাম, মুজিব was highly talent warrior (ক্ষণ জন্মা পুরুষ), তিনি দেশ স্বাধীনের পর

গরীবের জন্য সম্পদের সাম্য বন্টনের শুরু করেন! যাকে

বলা হতো “মুজিব বাদ”। মার্কস বাদ, লপলিন বাদ, মাওবাদ থেকে মুজিব বাদ ছিলো সর্ব উৎকৃষ্ট।

কেন উৎকৃষ্ট এই পানতা ভাত খাওয়া ব্রেইন থেকে নিসৃত থিউরি? মার্কস লেলিন, মাও সে তুং তাদের থিউরি তে ধর্মকে বিভেদের মুল আখ্যায়িত করে ধর্ম ঝেটিয়ে বিদায় করেছিলেন! কিন্তু মুজিব বলেছিলেন,” ধর্ম পরশ পাথর যা মানুষ কে স্বর্নে পরিনত করে, ধর্ম থাকবে, গনতন্ত্র থাকবে, জাতীয়তাবাদ থাকবে শুধু সম্পদের সম বন্টন হবে।

 

এই পার্থক্য ছিলো বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক দেশ আর বাংলাদেশের সমাজতন্ত্র তিনি যা করতে চেয়েছিলেন!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। হিংসা বিদ্বেষ ওজনে কম দুর্বলের উপর অত্যাচার শক্তির দম্ভ এসব মন থেকে মুছে ফেলা সিয়ামের শিক্ষা।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত