ইরানের কট্টরপন্থী পত্রিকা ‘হামশারি’-তে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের কয়েদির পোশাকে উপস্থাপন করায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ।প্রতিবেদনটিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর জন্য মেলোনিসহ পশ্চিমা ও ইসরায়েলি নেতাদের দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে।টার্গেট তালিকায় শীর্ষ নেতারা হামশারি পত্রিকার প্রকাশিত এই তালিকায় শুধু জর্জিয়া মেলোনিই নন, কয়েদির পোশাকে দেখানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং জার্মানির ফ্রিডরিখ মের্জের মতো শীর্ষ বিশ্বনেতাদের। প্রকাশিত ছবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কপালে সুনির্দিষ্টভাবে ‘লক্ষ্যবস্তু’ বা টার্গেটের চিহ্ন আঁকা ছিল। এছাড়া তালিকায় আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন ও ইসরায়েলি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
টাইমিং ও প্রতিশোধের বার্তা: আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি তার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার এবং হত্যাকারীদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেওয়ার দিনই এই বিতর্কিত ছবি ও তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। ইতালির তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সংহতি
এই ঘটনার পর ইতালির সরকার ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ইরানের এই হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
”প্রধানমন্ত্রী মেলোনির প্রতি আমি সর্বোচ্চ সংহতি প্রকাশ করছি। তিনি নিশ্চিতভাবেই কোনো ধরনের হুমকিতে কখনও ভীত বা বিচলিত হবেন না।”— আন্তোনিও তাজানি, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালির আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি মেলোনির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ইরানি হুমকিতে ইতালি কোনো অবস্থাতেই ভীত হয়ে পিছু হটবে না।”
পশ্চিমা নেতাদের এভাবে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমের এমন উসকানিমূলক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানি পত্রিকায় কয়েদির পোশাকে মেলোনি ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া
আপডেট:

