ডেস্ক :সড়কে বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার দাপটে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে ফেনী—সর্বত্রই যেন অটোরিকশার বিশাল জাল বিস্তার লাভ করেছে। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, সবখানেই ‘যেমন খুশি তেমন চল’ নীতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই যানগুলো। ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।ফেনী শহরে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অটোরিকশা বাড়ার পেছনে সক্রিয় এক শক্তিশালী চক্র। গ্যারেজ মালিক, চালক ও স্থানীয়দের তথ্যমতে—অল্প পুঁজিতে দ্বিগুণ লাভের আশায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বাসা-বাড়ির মালিকরা এসব অবৈধ যান কিনে দিনমজুর ও নিম্নবিত্ত মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মূলত তাদের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগেই শহরজুড়ে অটোরিকশার এ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। সড়কে চলাচলের অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই চালকদের আইনের আওতায় আনছে এবং আর্থিক জরিমানা করছে। তবে মূল বিনিয়োগকারী ও পৃষ্ঠপোষকরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ চালকরা বলছেন আসল অপরাধী বিনিয়োগকারীরা: অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, গ্যারেজ মালিক ও অর্থ লগ্নিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।একপেশে অভিযান অমানবিক, মূল মালিকদের ছেড়ে শুধু প্রান্তিক ড্রাইভারদের জরিমানা করা কিংবা মামলা দেওয়া অন্যায্য।ফেনীর মতো ছোট একটি শহরে অপরিকল্পিত অটোরিকশার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও জেলা প্রশাসক কিংবা পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টিতে নিশ্চুপ।সম্প্রতি ফেনীতে প্রকাশ্য সমাবেশে এক শ্রমিক নেতা পুলিশকে হুমকি দিয়ে অটোরিকশা চালকদের হয়রানি না করার হুঁশিয়ারি দেন। এতে স্পষ্ট হয়, অবৈধ এই ব্যবসার পেছনে প্রভাবশালী একটি মহল চেইন অব কমান্ড বজায় রাখছে।উদ্বিগ্ন ফেনীবাসী ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক উদাসীনতা বন্ধ করে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অটোরিকশার চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং নির্ধারিত ও সীমিত সংখ্যার লাইসেন্স প্রদান করে অটোরিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করা সম্ভব। অন্যথায় এই যানজট ও দুর্ঘটনার দায় থেকে শহরবাসীকে মুক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

