ব্রাসিলিয়া: বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে দুই দেশের বিশাল সম্ভাবনার তুলনায় এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও অনেক কম বলে মনে করছেন উভয় দেশের নীতিনির্ধারকেরা। বাণিজ্য আরও বাড়াতে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।১৫ মে ২০২৬ ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।
ব্রাজিল থেকে আমদানি: বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রাজিল থেকে প্রধানত তুলা, সয়াবিন, চিনি, কৃষিপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে।
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি: বাংলাদেশ তৈরি-পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক ব্রাজিলে রপ্তানি করে, যার সম্ভাবনা আগামীতে বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
বাণিজ্যিক খরচ ও সময় কমাতে তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার তাগিদ দেন।বৈঠকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি প্রেসিডেন্ট লুলার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পৌঁছে দেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেন।উভয়পক্ষ চলতি বছরের ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিতব্য ফরেন অফিস কনসালটেশনস (FOC) নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করেন। আসন্ন এই এফওসিতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।সহযোগিতার সম্ভাব্য খাতসমূহ কৃষি ও প্রযুক্তি,স্বাস্থ্য ও শিক্ষা,,ক্রীড়া ও সংস্কৃতিজ্বালানি ও উদ্ভাবন,উভয় দেশের নীতিনির্ধারকেরা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশ-ব্রাজিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৪ বিলিয়ন ডলার, সরাসরি শিপিং ও বিনিয়োগে জোর
আপডেট:

