প্রধান সম্পাদক
আনোয়ার মোরশেদ মজুমদার
তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ইতালির স্বাস্থ্যখাত এখন অ-ইউরোপীয় (Extra-UE) চিকিৎসা কর্মীদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির লম্বার্দিয়া (Lombardia) অঞ্চল বিদেশি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক এই বড় বাজারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় তৈরি হয়েছে হতাশা।
লম্বার্দিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য ও চাহিদার চিত্র
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ইতালিতে নিয়োগকৃত মোট বিদেশি ডাক্তার ও নার্সদের সিংহভাগই একা গ্রহণ করছে লম্বার্দিয়া অঞ্চল।
সিংহভাগ নিয়োগ: মোট বিদেশি স্বাস্থ্যকর্মীর ৫০% একাই নিয়োগ দিয়েছে লম্বার্দিয়া।
নার্সদের চাহিদা বেশি: লম্বার্দিয়ায় আসা কর্মীদের একটি বড় অংশই (৫৬%) পেশাদার নার্স।অন্যান্য অঞ্চল: লম্বার্দিয়ার পর সবচেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগ করেছে পিয়েমন্তে (১৯%) এবং সার্দিনিয়া (১০%) অঞ্চল।
কোন দেশ থেকে বেশি আসছে এবং কর্মীদের প্রোফাইল কী?
ইতালির এই বিশাল স্বাস্থ্যখাতে আগমনকারী বিদেশি কর্মীরা মূলত তিনটি দেশ থেকে আসছেন:
১. তিউনিসিয়া: ৩০%
২. ভারত: ২৫%
৩. প্যারাগুয়ে: ১৫%
কর্মীদের প্রোফাইল: নতুন আসা কর্মীদের একটি বড় অংশই ২৫-৩৮ বছর বয়সী নারী, যাদের প্রায় ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং সন্তান রয়েছে।
স্থায়ীভাবে ধরে রাখার বিশেষ উদ্যোগ
এই বিদেশি পেশাজীবীদের ইতালিতে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে দেশটির সরকার পৌঁছানোর পরপরই বিশেষ কিছু সুবিধা ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে:
ভাষা শিক্ষা: ইতালীয় ভাষায় দক্ষ করে তোলার কোর্স।
ডিগ্রি স্বীকৃতি: বিদেশি মেডিকেল ও নার্সিং ডিগ্রির দ্রুত আইনি স্বীকৃতি দান।
ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ: কর্মক্ষেত্রে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে ১ মাসের অন-দ্য-জব (On-the-job) ট্রেনিং।
বাংলাদেশের সুযোগ ও কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা
ইতালির স্বাস্থ্যখাতে যখন ভারত বা তিউনিসিয়ার মতো দেশগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, তখন বাংলাদেশের এই সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।কূটনৈতিক তৎপরতার অভাব: ইতালির এই বিশাল শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠাতে দৃশ্যমান কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।পরিকল্পনাহীনতা: স্বাস্থ্যসেবা খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা বা আন্তর্জাতিক মানের কর্মী গড়ে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো চোখে পড়ছে না।সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সরকার যদি ইতালিতে বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে জেনে নেয় এবং সেই অনুযায়ী দেশে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করে, তবে দেশের বেকার সমস্যা লাঘবের পাশাপাশি রেমিট্যান্স খাতে এক বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

