সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন দুর্নীতি আর অসততার খবর নিত্যদিনের চিত্র, ঠিক তখনই সততার এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সাধারণ অটোরিকশা চালক। নিজের চরম অভাব-অনটনকে একপাশে ঠেলে দিয়ে অন্যের হারিয়ে যাওয়া লাখ টাকার মালামাল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য এক নজির গড়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ফেনী পৌর শহরে। জানা গেছে, ফেনী পুলিশ কোয়ার্টারের বাসিন্দা জান্নাতুল ইয়াসমিন নামের এক নারী সম্প্রতি ফেনী শহরে চলাচলের সময় ভুলবশত একটি অটোরিকশায় তার মূল্যবান ব্যাগটি ফেলে যান। ব্যাগটিতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বেশ কিছু জরুরি কাগজপত্র ছিল। ব্যাগটি হারিয়ে যাওয়ার পর জান্নাতুল ইয়াসমিন যখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হাজির হন অটোরিকশা চালক এনায়েত খান।
লোভের ঊর্ধ্বে সততা
অটোরিকশা চালক এনায়েত খানের স্থায়ী বাড়ি বাগেরহাটে হলেও জীবিকার তাগিদে তিনি ফেনী শহরে অটোরিকশা চালান। গাড়ি পরিষ্কার করার সময় তিনি ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগের ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র দেখেও এক মুহূর্তের জন্য লোভ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাগে থাকা নথিপত্রের সূত্র ধরে প্রকৃত মালিক জান্নাতুল ইয়াসমিনের খোঁজ করেন এবং সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ব্যাগটি তার হাতে তুলে দেন।
হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জান্নাতুল ইয়াসমিন। তিনি অটোরিকশা চালকের এই মহানুভবতা ও সততার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সুশীল সমাজের প্রতি এক নীরব চড়
বর্তমান সমাজে যখন সততা যেন এক প্রকার ‘নির্বাসিত’ শব্দে পরিণত হয়েছে, তখন একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের এই সততা পুরো সমাজকে এক বড় বার্তা দিয়ে গেল। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তথাকথিত সুশীল সমাজের অনেক বড় বড় কর্তা ব্যক্তি যারা দুর্নীতির সাথে আপস করে চলেন, এই রিকশাচালকের সততা তাদের মুখে এক নীরব চড়।
সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্তঃপুরে যখন অসততার মহামারি, তখন এনায়েত খানের মতো সাধারণ মানুষেরাই প্রমাণ করেন—পৃথিবীতে এখনো মানবিকতা আর সততা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এই ঘটনাটি বর্তমানে পুরো ফেনী জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চালক এনায়েত খানকে সবাই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
সততার এক বিরল দৃষ্টান্ত”ফেনীতে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ ফিরিয়ে দিলেন “বাগেরহাটের অটোচালক
আপডেট:

