মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬

সাংবাদিক ক্রীড়া সংগঠক মাহাবুল- উল হক পেয়ারের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৩ই সেপ্টেম্বর

আপডেট:

ফেনী প্রেস ক্লাবে সাবেক সভাপতি ক্রীড়া সংগঠক অগ্রজ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব গভীর শ্রদ্ধা।

এই উপলক্ষে আগামীকাল বাদ মাগরিব মিজান রোডস্থ গ্র‍্যান্ড হক টাওয়ারে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ফেনী প্রেসক্লাবে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে।
ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুব উল হক পেয়ারা গত ২০০০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ৭৪ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।তিনি প্রায় তিন দশক সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এরপূর্বে কিছুদিন তিনি ডেইলি অবজারভারেও কাজ করেছেন। দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি ফেনীর সাংবাদিকদের ফেনী প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে সুসংগঠিত করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রেসক্লাবের সদস্য পদ লাভ করার পর ‘৭৭ সাল থেকে ‘৮৩ সাল পর্যন্ত একটানা ফেনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ‘৯১ সালে পুনরায় সভাপতি এবং ‘৯৮ সালে প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।মাহাবুব উল হক পেয়ারা ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা ক্রীড়া সংগঠক। ফেনী স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠায় তার ছিল অক্লান্ত উদ্যোগ ও পরিশ্রম। তিনি ফেনী ক্রীড়া সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ছিলেন। ফেনীর ঐতিহাসিক ও জমজমাট খান সাহেব বজলুল হক ফুটবল টুর্নামেন্ট তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হতো। ফেনী এভারগ্রীন ক্লাব ও ব্রাদার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।তিনি নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও তৎকালীন সরকার প্রদত্ত স্বেচ্ছাশ্রম পুরস্কার লাভ করেন।ফেনী শহরের সমাজসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফেনীতে রোটারি আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন তিনি। রোটারি ক্লাব, রেডক্রস ,শিশু একাডেমীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিল তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ছাপ।ফেনী পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে তিনি কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছিলেন ফেনী শিল্পকলা একাডেমীর কর্মকর্তা হিসেবেও। সমাজ সেবক হিসেবে তিনি ১৯৭৬ ‘সালে শতবর্ষের ফেনী’ স্বর্ণপদক লাভ করেন।শিক্ষা বিস্তারে ছিল তাঁর অনন্য ভূমিকা। নিজ পিতৃভূমি ফাজিলপুর কে এম হাটে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কে এম হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ফেনী কলেজ, ফেনী আলিয়া মাদ্রাসা ও ফেনী পাইলট হাই স্কুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন।তাঁর পিতা খান সাহেব বজলুল হক ৩০এর দশকে ছিলেন নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। বড় ভাই ওবায়দুল হক ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কলাম লেখক। প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিপত্নীক। বার্ধক্যের চাপে সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে অবসর নিলেও আমৃত্যু তিনি একজন আপোষহীন আদর্শ সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।১৩ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ও স্ট্রোক জনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর গুণধর সন্তানেরা পৈত্রিকভূমিতে প্রতিষ্ঠা করেন বৃহত্তর নোয়াখালীর আধুনিক ও বৃহত্তম শপিং কমপ্লেক্স ‘গ্র্যান্ড হক টাওয়ার’। এই গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ফেনীর ক্রীড়াজগত ও সাংবাদিকতার মহীরুহ ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জনাব মাহবুব উল হক পেয়ারা।এই সংশপ্তক ব্যক্তিত্বের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
(তথ্য সংগ্রহঃ Emon Ul Huq বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, সমাজসেবক এবং মরহুমের কনিষ্ঠপুত্র।)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত