রবিবার, মে ২৪, ২০২৬

ফেনীতে অধিকার’র সমাবেশ ও মানববন্ধনগুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের শঙ্কায় স্বজনেরা

আপডেট:

সারমিন সুলতানা /ফেনী :​গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ উপলক্ষে ফেনীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। গতকাল শনিবার (২৩ মে) দুপুরে অধিকার ফেনী ইউনিটের আয়োজনে ফেনী প্রেসক্লাবে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গত ১১ বছর ধরে গুম থাকা যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা মো. আবুল হাসান শাহীন এবং সঞ্চালনা করেন অধিকারের ফোকাল পার্সন নাজমুল হক শামীম। সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে গুম হওয়া রিপনের মা রওশন আরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,​”র‍্যাব পরিচয়ে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিগত হাসিনা সরকারের আমলে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাইনি। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গুম অধ্যাদেশ তৈরি করায় আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার তা সংসদে পাস না করায় অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গেছে। বিএনপি করার কারণেই আমার ছেলে গুমের শিকার হয়েছিল, এখন বিএনপি সরকারই যদি এর বিচার না করে, তবে আমি কার কাছে বিচার চাইব?”আন্তর্জাতিক সপ্তাহ ১৯৮১ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সংগঠন ‘ফেডেফেম’ (FEDEFAM) প্রথম মে মাসের শেষ সপ্তাহে গুমের বিরুদ্ধে এই আন্তর্জাতিক সপ্তাহ পালন শুরু করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে ডিজিএফআই বা র‍্যাবের গোপন বন্দিশালায় (আয়নাঘর) বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম ও নির্যাতন করা হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক গুম সনদে স্বাক্ষর করে এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুমোদন দেয়। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বর্তমান বিএনপি সরকার তা সংসদে পাস না করায় অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গেছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতায় পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
​অধিকার-এর ৫ দফা দাবি
​সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি জানানো হয়:
​অবিলম্বে জাতীয় সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন পাস করতে হবে।
​নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ব্যাংকিং ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
​ভারতের কারাগারে কোনো বাংলাদেশি গুমের শিকার ব্যক্তি বন্দি আছেন কি না, তা জানতে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করতে হবে।
​গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
​গুমের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে (কোনো দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না)।
​সমাবেশ শেষে ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে অধিকার-এর নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত