ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ত্রেন দে আরাগুয়ার শীর্ষ নেতা হেক্টর রাসথেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস ওরফে ‘নিনো গেরেরো’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।গত শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড দ্রুত ও প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়ে ত্রেন দে আরাগুয়ার এই ‘কুখ্যাত নেতাকে’ হত্যা করেছে। তিনি জানান, অহযোগিতাও ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ত্রেন দে আরাগুয়ার শীর্ষ নেতা হেক্টর রাসথেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস ওরফে ‘নিনো গেরেরো’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।গত শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড দ্রুত ও প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়ে ত্রেন দে আরাগুয়ার এই ‘কুখ্যাত নেতাকে’ হত্যা করেছে। তিনি জানান, অভিযানে ভেনেজুয়েলার সহযোগিতাও ছিল।পরবর্তীতে ভেনেজুয়েলা সরকারও এক বিবৃতিতে গেরেরোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বলিভার রাজ্যে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের সময় সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ত্রেন দে আরাগুয়ার একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। তার ভাষায়, এ অভিযান মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।ত্রেন দে আরাগুয়ার উৎপত্তি ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া অঙ্গরাজ্যের টোকোরন কারাগার থেকে। পরবর্তীতে এটি মাদক পাচার, মানবপাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী অপরাধী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা প্রায় সাত হাজার বলে ধারণা করা হয়।২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ত্রেন দে আরাগুকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা, পেরু, কানাডা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোও সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।৪২ বছর বয়সী গেরেরো ২০২৩ সালে টোকোরন কারাগারে পুলিশের অভিযানের ঠিক আগে অন্য কয়েকজন গ্যাং নেতার সঙ্গে পালিয়ে যান। পরে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে সহায়তা, চাঁদাবাজি ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছোট নৌযানের ওপর চালানো একাধিক হামলাকে ত্রেন দে আরাগুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান বলে দাবি করেছিল। তবে এসব হামলায় অন্তত ২০৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। নিহতদের কয়েকজনের স্বজন দাবি করেছেন, তারা জেলে ছিলেন।সমালোচকদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন আইনের দৃষ্টিতে বিতর্কিত এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল।অভিবাসন নীতিতেও ত্রেন দে আরাগুয়ার প্রসঙ্গ ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে কিছু অভিবাসীকে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যদিও িও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

