লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২২.০৯.২০২৩
কর্নেল ওসমানী ছিলেন আগাগোড়া সৈনিক, কঠোর শাসক। বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন বিশাল হৃদয়ের মানুষ আবেগপ্রবণ আগাগোড়া ভালোবাসায় ভরপুর। কুরআনে আল্লাহ মুসলমানদের ক্ষমা ক্ষমা ক্ষমা কে দারুন প্রধান্য দিয়েছেন। একজন দেশ ও জাতির নেতা (কওম লীডার) হিসাবে সবাই মিলেমিশে থাকাকে অধিকতর শ্রেয় মনে করতেন বঙ্গবন্ধু । তিনি মনে করতেন একবার ভুল করা লোকটা কে ক্ষমা করলে, সে শুধরে ভালো হয়ে যাবে তাই সবাইকে তিনি ক্ষমা করে শুধরাবার সুযোগ করে দিতেন। তার এই দুর্বলতার সুযোগ তার মৃত্যুর অন্যতম কারন এবং কর্নেল ওসমানীর অসন্তুষ্টির বড় কারন !
১. মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে “জিয়া” একবার কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার কে মোটিভেট করার চেষ্টা করেছিলেন, “বিপ্লবী সরকার গঠনেের এবং তিনি সিনিয়র হিসাবে তাক চীফ করে সেই সরকারের অধীনে
পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন করে স্বায়ত্তশাসিত দেশ চালাতে। বিষয় টা ওসমানী সাহেবের কর্নগোচর হলে তিনি জিয়াকে সেক্টর কমান্ডার থেকে সরায় দিয়ে কোর্টমার্শাল এর মুখোমুখি করতে চান, মুজিব নগর সরকার তা মেনে নেয় নাই!
২. স্বাধীনতার পর জিয়াকে সেনাবাহিনী তে কর্নেল ওসমানী রাখতে চান নাই কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা মেনে নেন নাই তবে ওসমানির শত সন্দহ তুলে ধরায় বঙ্গবন্ধু তাকে সেনাপ্রধান করেন নাই। সেনাপ্রধান করলে ক্যূ & হত্যা আরো ত্বরান্বিত হতো সিআইএ ও আইএসএর অভয় পেয়ে জিয়া সে কামটা করে ফেলতো, সে আমলে গোয়েন্দা বাহিনী ছিলো তা আমার বিশ্বাস ই হয় না!
৩. একসময় জিয়ার কিছু কার্য্যকলাপ কর্নেল ওসমানির নলেজে আসে তিনি বঙ্গবন্ধু কে সুপারিশ করেন, জিয়াকে কোন দেশের রাস্ট্র দূত করে পাঠিয়ে দিতে। বিদেশ মন্ত্রনালয় কাগজপত্র রেডি করার পরে ও বঙ্গবন্ধু তা নাকচ করে দেন!
৪. সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ জিয়া মোস্তাক ফারুক রশীদ গং এর কিছু গোপন তথ্য লিপিবদ্ধ করে পাঁচ পাতার একটা স্টেটমেন্ট তৈরি করে তিন মাস ঘোরাঘুরির পর বঙ্গবন্ধু সাক্ষাৎ পান!
সফিউল্লাহ সাহেবের কাগজগুলো বঙ্গবন্ধু হাতে নিয়ে ৮/১০ লাইন পড়ে ছিড়ে ফেলেন এবং ছেড়া কাগজগুলো এপিএস মুহিতকে দেন পেপার ওয়াস্ট বক্সে ফেলে দিতে। বঙ্গবন্ধু সফিউল্লাহকে নাকি ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, “তুমি এই সংবাদ দেয়ার জন্য সাক্ষাৎ চেয়েছিলে, ওরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে আমাকে মেরে ফেলতে এমন উদ্ভট চিন্তা কেন এলো তোমার মাথায়, যাও কাজ করো! (সফিউল্লাহ সাহেব তার আপন বিয়াই যিনি আমার আপন মামা শ্বশুর কে বলেছেন কথাগুলো, তার প্রশ্নের উত্তরে, ” Being army chief you can’t avoid the responsibility of Bangabandhu killing! সফিউল্লাহ আমার সব ছোট খালা শ্বাশুড়ি র ছোট দেবর যার শীতলক্ষ্যার বাসায় আমরা গেটটুগেদারে যাই বাড়ীর সিড়ি শীতলক্ষ্যার ভিতর পর্যন্ত চলে গেছে।)
৫. বঙ্গবন্ধু “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) করেছিলেন অনেকটা প্র সমাজতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে ভিয়েতনামের ‘হো চেমমিন, কম্বোডিয়া র ‘থিউ’, কিউবার ‘কাস্ত্রোর’, চিলির আলেন্দের থিউরি থেকে যারা সবকয়জন ছিলেন গরীব দরদী কিন্তু মার্কিন
প্রধান শত্রু! ওসমানী সাব পদত্যাগ করেন এবং বাকশালে যোগদানে বিরত থেকে নতুন দল করেন, বাকশাল ছিলো পেশাজীবি সহ সবার দল, ‘মেজর জিয়া’ যোগদান করেন বঙ্গবন্ধু কে ছালাম করে!
প্রিয় পাঠক বঙ্গবন্ধুর এই বিশাল হৃদয়ে ভালোবাসা ভরপুর ওসমানী সাহেবের পছন্দ ছিলো না। এই গায়ে না মাখা ঢিলে ঢালা প্রশাসন ওসমানীর সামরিক কঠোরতার সাথে ছিলো সাংঘর্ষিক। তিনি বেঈমান কখন ইমানদার হয় না এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কেবিনেট ও ছিলো সবাই আগাগোড়া রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কেউ কূটনীতিক ছিলেন না আর তাই জিয়া নিজে সেনা চীফ দ্বিতীয় টার্মে হতে না পেরে (তা ও ওসমানী হতে দেন নাই) পদত্যাগ করেন। চিটাগং এর (নাম ভুলে গেছি) ডেপুটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কে সুপারিশ করেন জিয়াকে একমাস সেনানিবাসে থাকার অনুমতি দিতে, বঙ্গবন্ধু অনুমতি দেন এবং জুলাই আগষ্ট মিলে একমাস জিয়া সেনানিবাসে থাকেন চাকুরী ছাড়া, এই একমাস পিক পিরিয়ড অফ বঙ্গবন্ধু কিলিং, এবং মজার কথা জিয়ার চির শত্রু ওসমানী যা জানতেন জিয়া সম্বন্ধে তা কোন গোয়েন্দা ও জানতো না, জিয়া ক্ষমতায় এসেই অনেক বেতন সুযোগ সুবিধা সহ ওসমানী কে সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা পদ দেন এবং ওসমানী সাব তা স্বাদরে গ্রহন করে সুখেনজীবন যাপন করেন!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালবাসেন।
ধর্ম করেন মানুষ হয়ে মানবতা মনুষ্যত্ব অর্জন করে, গরুর গাধার জন্য ধর্ম না। আর কেই বঙ্গবন্ধু হতে যাবেন না! শত্রু শত্রু, আপন ভাইর সাথে ও অতি উদার হবেন না। keep necessary demarcation.


