বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

ফেনী পৌরসভায় বেড়েছে চুরি ও মাদকের দাপট: জনমনে আতঙ্ক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট:

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ফেনী পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে সহদেবপুর, মাস্টার পাড়া, পূর্ব উকিল পাড়া ও আরামবাগ এলাকায় চুরি, মাদক কেনাবেচা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব এলাকার অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।চুরির নেপথ্যে ‘বহিরাগত’ সিন্ডিকেট এলাকাবাসীর দাবি, এসব চুরির সাথে একদল বহিরাগত লোক সরাসরি জড়িত। দিনের বেলা তারা বিভিন্ন অজুহাতে এলাকায় ঘোরাঘুরি করে রেকি করে এবং সুযোগ বুঝে রাতে বা নির্জন সময়ে বাড়িতে হানা দেয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তারা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।​চুরির পাশাপাশি এসব এলাকায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। গলির মোড়ে মোড়ে কিশোর গ্যাং ও বহিরাগতদের আড্ডা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক প্রশ্রয় থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।পুলিশের নিস্ক্রিয়তা ও যোগসাজশের অভিযোগ শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে এসব অপরাধ ঘটলেও পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। টহল পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ:অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করার পরও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।অনেকের মতে, পুলিশের সাথে অপরাধী চক্রের গোপন যোগসাজশ রয়েছে, যার কারণে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
​”আমরা এখন ঘরে ঘুমাতেও ভয় পাই। এক সপ্তাহে ১০টি চুরি সাধারণ বিষয় নয়। পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না, উল্টো মনে হচ্ছে তারা অপরাধীদেরই সুরক্ষা দিচ্ছে।”
— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ভুক্তভোগী বাসিন্দা
​পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। অনতিবিলম্বে পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি এখন তুঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত