মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

দাসপ্রথা মানব মর্যাদার পরিপন্থী”খ্রিস্টীয় স্মৃতির এক ক্ষত’ বলেন ” : পোপ লিও

আপডেট:

নিজের প্রথম পোপীয় এনসাইক্লিক্যাল বা নীতিপত্রে লিও বলেন, ‘দাসপ্রথার অভিশাপ’কে মানব মর্যাদার পরিপন্থী হিসেবে পুরোপুরি স্বীকৃতি দিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী লেগেছে চার্চের। এ উত্তরাধিকারকে ‘খ্রিস্টীয় স্মৃতির এক ক্ষত’ বলে আখ্যা দেন তিনি দাসপ্রথায় বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিল ক্যাথলিক চার্চ। এ ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট’ ভাষায় ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন পোপ লিও। গতকাল তিনি স্বীকার করেন, দাসপ্রথার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে এবং ইতিহাসে একসময় এটি প্রথাকে বৈধতা দিতেও ভূমিকা রেখেছিল চার্চ। খবর রয়টার্স।নিজের প্রথম পোপীয় এনসাইক্লিক্যাল বা নীতিপত্রে লিও বলেন, ‘দাসপ্রথার অভিশাপ’কে মানব মর্যাদার পরিপন্থী হিসেবে পুরোপুরি স্বীকৃতি দিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী লেগেছে চার্চের। এ উত্তরাধিকারকে ‘খ্রিস্টীয় স্মৃতির এক ক্ষত’ বলে আখ্যা দেন তিনি।পোপ লেখেন, ‘এ কারণে চার্চের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ একই সঙ্গে দাসত্বে নিপীড়িত মানুষের দুর্ভোগের জন্য তিনি ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেন।পোপ লিও স্বীকার করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে চার্চের কর্তৃপক্ষ শাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিপীড়নের নানা ধরনকে নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা দিয়েছিল, যার মধ্যে খ্রিস্টান নয় এমন ব্যক্তিদের দাস বানানোর ঘটনাও ছিল।তিনি আরো বলেন, মধ্যযুগে চার্চের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজেদেরও দাস ছিল।লিওর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ শতকে পোপ ত্রয়োদশ লিওর সময় এসে চার্চ প্রথমবারের মতো দাসপ্রথার বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক, পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন নিন্দা’ জানায়। বর্তমান পোপ এটিকে চার্চের শিক্ষা ও চর্চায় দীর্ঘদিনের অসঙ্গতির পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন।লিওর মন্তব্যকে এখন পর্যন্ত কোনো পোপের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দায় স্বীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন পোপ দাসপ্রথার জন্য পৃথক খ্রিস্টানদের কর্মকাণ্ডের কথা বললেও ভ্যাটিকানের সরাসরি ভূমিকা নিয়ে এত পরিষ্কারভাবে কথা বলেননি।১৯৮৫ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল আফ্রিকা সফরের সময় দাস বাণিজ্যে ‘খ্রিস্টান জাতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত মানুষদের’ ভূমিকার কারণে আফ্রিকানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।লিওর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিস আধুনিক দাসত্বের নিন্দা করেছিলেন এবং ১৫ শতকের কিছু পোপীয় দলিলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো নিজেদের কর্মকাণ্ড বৈধতা দিতে ওইসব দলিল ব্যবহার করত, যার মধ্যে দাসপ্রথাও ছিল।তবে আগের এসব বক্তব্যে পোপতন্ত্রের সরাসরি ভূমিকার বদলে দায়কে সাধারণভাবে খ্রিস্টান সমাজ বা ঐতিহাসিক পরিস্থিতির ওপর আরোপ করা হয়েছিল।প্রথম এনসাইক্লিক্যাল ম্যাগনিফিকা হিউমানিতাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত নতুন ধরনের শোষণ নিয়েও সতর্ক বার্তা দিয়েছেন পোপ লিও।গত বছর পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রকাশিত বংশগত গবেষণায় দেখা যায়, ইতিহাসের প্রথম মার্কিন-জন্ম পোপ লিওর পূর্বপুরুষদের মধ্যে যেমন দাস ছিলেন, তেমনি দাস-মালিকও ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত