ইউরোপ ডেস্ক:ইউরোপে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ অভিবাসনের তোপ থেকে মহাদেশটির নিরাপত্তা রক্ষা করতে একজোট হয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইতালি ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এই দুই নারী সরকারপ্রধান যৌথভাবে ‘উদ্ভাবনী সমাধান’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
তৃতীয় দেশে ‘বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্র’
অভিবাসন সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমানার বাইরে, অর্থাৎ কোনো তৃতীয় দেশে বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্র তৈরির মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন দুই নেতা। অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা থামানো এবং আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।স্থানীয় আইন ও খ্রিস্টান মূল্যবোধ পালনের আহ্বান ইউরোপে বসবাসরত বিদেশি ও নতুন আসা অভিবাসীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, ইউরোপে বাস করতে হলে অবশ্যই—স্থানীয় আইন-কানুনের প্রতি কঠোর আনুগত্য দেখাতে হবে।ইউরোপের খ্রিস্টান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।যেসব অভিবাসী ইউরোপে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের আর বরদাস্ত করা হবে না। ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের (ECHR) কাঠামোর ভেতরে থেকেই অপরাধী অভিবাসীদের দ্রুত ইউরোপ থেকে বহিষ্কার বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী পূর্ণ সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
অর্থনৈতিক চাপ ও অপরাধ বৃদ্ধির উদ্বেগ
যৌথ বার্তায় দুই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ অভিবাসনের ফলে বর্তমানে—
১. ইউরোপজুড়ে অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
২. নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক ব্যবস্থার (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা) ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
মতাদর্শিক দূরত্ব ভুলে শুধু মাত্র ইউরোপের সীমানা রক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং জনসেবামূলক ব্যবস্থা ভেঙে পড়া রোধ করতেই এই অভূতপূর্ব যৌথ উদ্যোগে সামিল হয়েছেন ইতালি ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী।
ইউরোপ রক্ষায় অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে ইতালীয় ও ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর ঐক্য মত
আপডেট:

