শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬

নিঠুর বিধাতা

আপডেট:

 

কলমে ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তারিখ ঃ ২৩.০১.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

পাঁচ বছর বয়সে আমি যখন হই ধর্ষণের শিকার

অপক্ব রক্ত কুসুম আমি, মন্দির মসজিদে তোমায় ডেকে করি চীৎকার!

তুমি ভগবান ঈশ্বর আল্লাহ, নিশ্চুপ চেয়ে চেয়ে দেখো

কেন তুমি বাকরুদ্ধ নিথর নীরব নিশ্চুপ থাকো?

 

কেন একলাই নিয়েছো তুমি শত নাম

ঈশ্বর ভগবান আল্লাহ যীশু, এত নামের কি কাম?

কেন তুমি পাপীর পাপিষ্ঠ কর্মে দাও না শাস্তি

ধর্ষণ, খুন টুকরো টুকরো করছে নিশানা মিটাতে অবয়ব অস্থি !

 

তুমি বলেছো নিজেকে মহান পৃথু, দয়াদাক্ষিণ্যের সাগর, অর্ণব

তুমি নিরপেক্ষ, নাই লোভ লালসা আবশ্যকতা কোন বিত্ত বিভব!

ওয়াদা, আছো তুমি সকলের বিপদে-আপদে সবার সাথ

গাছের পাতা নড়তে ও আছে তোমার নির্দেশনার হাত!

 

আমি দুর্বল গরীব অসহায় আমার জমি, বাড়ী, সব নেয় কেড়ে

তুমি স্বাগত জানাও বাকরুদ্ধ থেকে, হাত নেড়ে নেড়ে ?

কেন গর্জে ওঠে না খালিদ কাসিম গজনী টিপুর তরবারি

আমি অসহায়, শুধু তোমার মন্দির মসজিদে মাথা ঠুকে মরি!

 

ভূমিদস্যুতা শালিসি জরিপ ধর্ষণ সর্বত্র টাকায় পক্ষপাতিত্ব সমাধান

তুমি নিশ্চুপ নির্বাক যখন নাবালিকাকে উদাম-দিগম্বর করে অধস্তন!

তোমার শান্তির ধর্মে কেন এত বিভেদ হানাহানি বিভক্তি

আমি নির্বোধ মূঢ় বেকুব মুর্খ হয়তো নাই আমার বোঝার শক্তি?

 

পিতার কে বেঁধে মেয়ে, স্বামীকে বেঁধে স্ত্রী হয় ধর্ষণের শিকার,

তখনও তুমি থাকো বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী, নির্বিকার!

তুমি রহমানের রহীম, তোমার অসীম অনন্ত দয়া

এই শীতে বস্ত্রহীন গরীব ঘুমায় ফুটপাতে, কোথায় তোমার ছায়া?

 

তোমার সব সম্পদ দিয়েছো গুটিকয়েক লোকের হাতে

এতিম অনাথ টোকাই ছন্ন ছাড়া মরে ভাতে, ফুট পাতে!

অর্থ দেহ যখন হয় উপরে ওঠার সিড়ি

এমন লোকে কেমনে দেবে তোমার স্বর্গ ভরি!

 

এত নির্যাতন ক্ষুধা সয়ে বাঁচা কি আমাদের কর্মফল

নাকি কুপথগামী কে অর্থ-বিত্তের পাহাড় গড়ে দিয়ে করেছো সবল!

কেন আমাদের দুর্বল গরীব দাসানুদাস করেছো দুনিয়ায়

বলো হে মহাপ্রভু, তোমার সেবক বান্দা আজ উত্তর চায়!

আজ মহানায়ক বাঙ্গালি বীর মুজিবের গুরু সুভাষ বোসের জন্মদিনে তাকে উৎসর্গীকৃত আমার এ কবিতা।

বিনম্র শ্রদ্ধা!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত