শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

ফেনীতে দিনে-দুপুরে বাড়ছে চুরি-ডাকাতি: অতিষ্ঠ নাগরিক জীবন, মালামাল উদ্ধারে পুলিশের ব্যর্থতায় ক্ষোভ

আপডেট:

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী:ফেনী জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা। বিশেষ করে দিনে-দুপুরে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তৎপরতায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেনী শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ডাক্তার পাড়া, মাস্টার পাড়া, ও নাজির রোড সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে চোরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও এখন হরহামেশাই চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।নেপথ্যে অন্য জেলার সংঘবদ্ধ চক্র ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ভুক্তভোগী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন
​”গত সরকারের আমলে দেশে অনেক অন্যায়-অবিচার হয়েছে সত্যি, কিন্তু দিনে-দুপুরে এমন দেদারসে চুরি-ডাকাতি কখনো দেখিনি। এখন সাধারণ মানুষ নিজের ঘরেই নিরাপদ বোধ করছে না।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট বা সংঘবদ্ধ চোর-ডাকাত দল কাজ করছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বা অসাধু ব্যক্তি এই চক্রটিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চক্রের অধিকাংশ সদস্যই অন্য জেলার বাসিন্দা। তারা ছদ্মবেশে দিনে ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালক, হকার বা দিনমজুরসহ নানা পেশায় কাজ করে এবং সুযোগ বুঝে দিন ও রাতে চুরি-ডাকাতি করে অনায়াসে অন্য জেলায় পালিয়ে যায়।স্থানীয় বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা হলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুরির ঘটনার পর থানায় মামলা বা অভিযোগ করা হলেও খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারের নজির নেই বললেই চলে। পুলিশি তদন্ত এবং তৎপরতা কেবল কাগুজে প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, যার ফলে চোর চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।ফেনীর সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে জেলাজুড়ে পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, বহিরাগতদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় যেসব আশ্রয়দাতা এই চক্রের সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত