সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে অভিযান ব্যবস্থা যখন ভাঙনের মুখে,মুক্তি যোদ্ধা বিষয় মন্ত্রী মাঠে

আপডেট:

প্রধান সম্পাদক
আনোয়ার মোরশেদ মজুমদার (বুলেট)

​সারাদেশের প্রতিটি জনপথ আজ মাদকের করাল থাবায় অক্টোপাসের মতো আচ্ছন্ন। শহর থেকে গ্রাম—কোথাও নিস্তার নেই এই মরণব্যাধি থেকে। চুরি, ছিনতাই, খুন কিংবা পারিবারিক সহিংসতা—সমাজের প্রায় প্রতিটি অপরাধের পেছনেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে মাদকের জঘন্য হাতছানি। দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনার তুঙ্গে থাকা এই সংকট যেন দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, অথচ কার্যকরী প্রতিকারের পথ আজও অধরা।সাম্প্রতিক সময়ে এক মন্ত্রীর নিজ দায়িত্বে মাদক বিরোধী অভিযানে নেমে পড়া দেশজুড়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ও কাঠামোগত ব্যর্থতা ঠিক কতটা চরমে পৌঁছালে একজন মন্ত্রীকে নিজে রাজপথে নেমে অভিযান চালাতে হয়? যখন এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করার কথা, তখন দেখা গেল কিছু গণমাধ্যম ব্যস্ত হয়ে পড়লো মন্ত্রীর অভিযান আইনসম্মত ছিল কি না কিংবা এতে ‘আইন লঙ্ঘন’ হয়েছে কি না তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে। কিন্তু সাধারণ জনগণের প্রশ্ন ভিন্ন: রাষ্ট্রের সার্বিক কাঠামো যদি সঠিকভাবে কাজ করতো, তবে কেন একজন মন্ত্রীকে বাধ্য হয়ে সরাসরি মাদকের আস্তানায় হানা দিতে হবে?প্রশাসনের চরম দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির চিত্রটি এখন আর কারও অজানা নয়। পুলিশ বাহিনীর প্রায়শই অভিযোগ থাকে—মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করার পর তারা খুব দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। একেকজন চিহ্নিত কারবারির বিরুদ্ধে ডজনখানিক বা ১৫টিরও বেশি মামলা থাকার পরও কীভাবে তারা সমাজে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়? বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে আজও কোনো বড় ‘মাদক গডফাদার’-এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারণে কত হাজার তরুণ প্রাণ অকালে ঝরে গেল, কত পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল—আজ সেই হিসাব ও পরিসংখ্যান দেশের সাধারণ জনগণ জানতে চায়।মন্ত্রী নিজে এই অবৈধ লেনদেন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কাছে একপ্রকার অসহায় বোধ করেই মাঠে নেমেছেন—এটি আসলে আমাদের বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোরই এক নগ্ন বাস্তবতার প্রতিফলন। ঘুষ ও দুর্নীতি যখন সর্বত্র রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিকড় গেড়ে বসে, সেখানে একজন জনপ্রতিনিধির এমন প্রত্যক্ষ আক্রমণই সাধারণ মানুষের মনে সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয়। সে কারণেই বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, আপামর জনসাধারণ মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
​তবে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিভিত্তিক কোনো অভিযান দিয়ে স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। আইনের সূক্ষ্ম প্রয়োগের দোহাই দিয়ে মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি নপুংসক আইনি জটিলতার পেছনে লুকিয়ে থাকবে, নাকি মাদকের গডফাদারদের শেকড় উৎপাটনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবে? বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভিতরের কালো ভেড়া সনাক্তকরণ এবং মাদকের মূল জোগানদাতাদের স্থায়ী বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সমাজ সঠিক পথে ফিরবে না। রাষ্ট্রের চালকদের মনে রাখতে হবে, জনগণের স্বস্তি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো আইন হতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত