মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

আপডেট:

​অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে তা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃতরা হলেন:১. মো. সোলায়মান (৪৭) – গ্রাম: কাগমারা, টাঙ্গাইল সদর।
২. মো. সাগর মিয়া (২৮) – গ্রাম: এনায়েতপুর, টাঙ্গাইল সদর (এমএফএস-এর ডিএসও)।
৩. মো. জুয়েল রানা (৩২) – গ্রাম: দিঘীবিল, টাঙ্গাইল সদর (এমএফএস-এর ডিএসও)।
​যেভাবে গ্রেফতার করা হয়: ৭ জুন দুপুরে প্রথমে মো. সোলায়মানকে তার নিজ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে টাঙ্গাইল সদরের কলেজপাড়া এলাকার একটি বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।বিজ্ঞাপন ও বেটিং: চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে জুয়া বা বেটিং পরিচালনা করছিল।
​লেনদেন: জুয়াড়িরা বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স সচল করতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এজেন্টদের মাধ্যমে সংগৃহীত এই টাকা থেকে নিজেদের কমিশন কাটার পর, বাকি অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে পাচার করা হতো।
​ গ্রেফতারকৃত সোলায়মান টাকার বিনিময়ে তার এজেন্ট সিম সাগর মিয়াকে সরবরাহ করেছিলেন। অন্যদিকে সাগর ও জুয়েল রানা এমএফএস-এর ডিএসও হওয়ায় কমিশনের বিনিময়ে জুয়ার সাইটে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে দিতেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে পল্টন (ডিএমপি) থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা (মামলা নং-২০) দায়ের করে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত