ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে কমলা বেগম (৩০) নামের এক প্রতিবন্ধী নারীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই অপরাধটি ঢাকতে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশ বসিয়ে মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় টমটমচালক সাকিব, আরমান ও বাদশা ওই নারীকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর ছয়ঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাঁরা তিনজন মিলে তাঁকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে স্থানীয় মাতব্বররা বিচার সালিশের আয়োজন করেন। জঘন্য এই অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনি শাস্তির মুখোমুখি না করে মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে বেআইনিভাবে সালিশ ডাকার বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে।ঘটনার জেরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাকিব (১৮) — উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রাম,ইয়াছিন (১৬) — উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রাম,আরমান(১৫) — উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রাম,ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের লোকদেখানো সালিশি বিচার তারা চান না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান”প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়ায় আছেন। শুধু মূল অভিযুক্তরাই নয়, যারা জঘন্য এই ঘটনাটি সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেনীতে প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
আপডেট:

