প্রাতো/ফ্লোরেন্স, ইতালি: সস্তা শ্রম ও কালোটাকা ব্যবহারকারী সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানাগুলোর ওপর সঠিক নজরদারি না করার অভিযোগে ইতালির ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘প্যাট্রিসিয়া পেপে’ ও ‘ডিক্সি’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন ফ্লোরেন্সের একটি আদালত। এসব সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানায় বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও আলবেনীয় কর্মীদের অমানবিক খাটুনি ও শোষণের প্রমাণ পাওয়ার পর আদালত এই তদারকিমূলক নির্দেশ জারি করেন।
শ্রমিক আন্দোলন ও তদন্তের শুরু
ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করার সময় এক বাংলাদেশি কর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ইতালিভিত্তিক শ্রমিক ইউনিয়ন ‘সুদ্দ কোবাস’ ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল স্কয়ারে অবস্থিত ব্র্যান্ডগুলোর শোরুম ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও বিচার বিভাগ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে।জড়িতদের জালিয়াতি ও প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্য
তদন্তকারীরা জানান, ভুয়া কোম্পানি ও চুক্তিপত্রের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি প্রায় ৫ লাখ ইউরো হাতিয়ে নিয়েছে। প্রাতোর প্রধান প্রসিকিউটর লুকা তেসকারোলি শ্রম শোষণ রোধে প্রাতো ও ফ্লোরেন্স অঞ্চলে বাড়তি তদন্তকারী দল ও বিশেষ পুলিশ বহর মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ১৮ শ্রমিকের জন্য বিশেষ রেসিডেন্স পারমিট
তদন্ত চলাকালে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা ভুক্তভোগী ১৮ জন অভিবাসী শ্রমিকের জন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিশেষ রেসিডেন্স পারমিটের (পেরমেসো দি সোজোর্নো) আবেদন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ শোষণের শিকার অন্য কর্মীদেরও মুখ খুলতে সাহসী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্র্যান্ড দুটির প্রতিক্রিয়া
তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘প্যাট্রিসিয়া পেপে’ ও ‘ডিক্সি’ নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আদালতের এই আদেশ কোনো ফৌজদারি অপরাধমূলক শাস্তি নয়; বরং এটি সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য গৃহীত একটি সতর্কতামূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রম শোষণ পেপে ও ডিক্সি ব্র্যান্ডের ওপর আদালতের নজরদারি
আপডেট:

