শনিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫

অভিনব প্রতারণা ফেইসবুকে ফ্ল্যাট বিক্রয়র বিজ্ঞাপন মা ছেলের

আপডেট:

ফেনীতে ফেসবুকে ফ্ল্যাট বন্ধকের বিজ্ঞাপন দিয়ে মা-ছেলের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে ২৭ পরিবার এখন সর্বস্বান্ত। লাভের আশায় অগ্রিম লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বন্ধক নিয়ে এখন মূল টাকা হারাতে বসেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী শহরের শাহীন একাডেমি সংলগ্ন র‍্যাব ক্যাম্পের পিছনের এলাকার হাশেম ম্যানশন নামে একটি তিনতলা ভবনের ৬টি ফ্ল্যাট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন ভবন মালিক আবুল হাসেমের স্ত্রী বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছান।গতকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে হাশেম ম্যানশনের সামনে প্রতারণার শিকার ১৭ জন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার প্রতারকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পলাতক প্রতারকদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে ন্যায়বিচার এবং কষ্টার্জিত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চান তারা।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কামাল হোসেন বলেন, হাশেম ম্যানশনের মালিক মৃত আবুল হাসেমের স্ত্রী বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে তাদের মালিকানাধীন বাড়ির ৬টি ফ্ল্যাট মোট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তারা তাদের বাড়িটি কুটকৌশলে ধাপে ধাপে গোপনীয়ভাবে বিভিন্ন জনের কাছে বন্ধক দেয়। তারা বন্ধকদারদেরকে ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়।
ভুক্তভোগী লিপি আক্তার বলেন, আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্থ, ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে তার সারাজীবনের জমানো টাকা দিয়েছেন, অনেকে তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়েছেন । পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ প্রতারকদের ধরিয়ে দিতে পারেন তাহলে তাকে উপযুক্ত আর্থিক সম্মানী দেওয়া হবে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। দয়া করে অসংখ্য ভুক্তভোগীদের সহায়তা করুন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে গত ২০ অক্টোবর তারা পালিয়ে যায়। পরে খরব নিয়ে জানতে পারি তারা ৬টি ফ্ল্যাট এভাবে ২৭ জনের কাছে বন্ধক দেয়। ইতিপূর্বে তারা আমাদের পাওনা টাকা দিবো দিচ্ছি বলে তালবাহানা করেছে। এই ব্যাপারে আমরা ফেনী মডেল থানায় ও র‍্যাবের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ৮জন বন্ধকদার বাদী হয়ে মামলা করেছি। যাহার মধ্যে বর্তমানে ৪টি মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতে ফেসবুকে ভুয়া ও লোভনীয় পোস্ট দেখে লোভে পড়ে আমাদের মত আর কেউ যেন প্রতারণা শিকার না হয়।এ ব্যাপারে বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছানের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

সুত্র: সাপ্তাহিক বর্ণমালা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত